সেপ্টেম্বর 12, 2020

প্রথমে, গত সপ্তাহের ঘটনাবলির পর্যালোচনা :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। 11 সেপ্টেম্বরে ইসিবি মিটিঙের পর যা ঘটেছে, ইউরো চেষ্টা করেছিল উঁচুতে উঠতে এমনকি পৌঁছেছিল 1.1920-তে, কিন্তু আক্ষরিকভাবেই এক ঘণ্টা পর বাজার স্থির করে যে এগুলি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, এবং ইউরো/মার্কিন ডলার জোড়ার কোট দ্রুত ফিরে আসে তাদের নিজের অবস্থানে। এর ফলে, এক-তৃতীয়াংশ বিশেষজ্ঞ আশা করেছিলেন, জোড়াটি 1.1700-1.2010 চ্যানেল অতিক্রম করতে পারবে না, যার সঙ্গে এটা চলাফেরা করছে সাত সপ্তাহ ধরে। উপরন্তু, এর ট্রেডিং পরিধি সংকীর্ণ হয়েছিল 1.1750-1.1920-তে, গত দশকের আগস্টের মানে ফিরে গিয়েছিল।
    তাহলে, সত্যি কী ঘটেছিল?
    অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান রেগুলেটরের বিবৃতির সুর হয়ে গিয়েছিল যতটা বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন তার চেয়ে বেশি হকিশ। ইউরোজোন অর্থনীতির সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ইসিবি একটি খুব আশাবাদী অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে এর প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্ডে বলেছেন যে ম্যাক্রো পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে ঘরোয়া চাহিদার দ্রুত বৃদ্ধি এবং নির্মাণক্ষেত্রে কার্যকলাপের। যদিও, তিনি আর্জি জানিয়েছেন যে গত পাঁচ মাসে ইউরো-র বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখাতে। তাঁর মতে, রেগুলেটর শুধু ইউরোপিয়ান কারেন্সির বিনিময় হারেই নজর দিচ্ছেন না বরং এইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতিতে এর প্রভাব নিরীক্ষণও করছেন।
    এই মন্তব্যের পর, হার বেড়ে গিয়েছিল এবং এমনকি পৌঁছেছিল 1.1900 দিগন্তেরও ওপরে। যদিও, বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মনে করেছেন ইউএস স্টক মার্কেটের তীক্ষ্ণ বৈপরীত্য, এই প্রেক্ষাপটের বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হচ্ছিল এবং দিনের পর দিন এক ‘কঠিন’ ব্রেক্সিটের সম্ভাব্যতা বা়ডছিল, যেখান থেকে শুধু যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নয়, বরং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে, তীক্ষ্ণ বিপরীত গতি দেখা গেল, কোট পড়ে গেল এবং জোড়াটি সপ্তাহ শেষ করল ঠিক সেখানেই যেখান থেকে এটি শুরু করেছিল 1.1840-এ।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। এই সপ্তাহের হিতাধিকারীরা ছিলেন ট্রেডাররা, যাঁরা এই জোড়াতে সংক্ষিপ্ত অবস্থান খুলেছিলেন। অধিকাংশ বিশ্লেষক যেমন আশা করেছিলেন, পাউন্ডের ক্রমাগত পতন চলছে, গত সপ্তাহে হারিয়েছে 480 পয়েন্ট এবং পাঁচ-দিনের পর্ব শেষ করেছে 1.2797-এ।
    পাউন্ডের বিশাল বিক্রির কারণ ছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সর্বশেষ পদক্ষেপ, যিনি সংসদে অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর একটি বিল প্রবর্তন করেন। যদি এটি অনুমোদিত হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে প্রত্যাহারের ইতিমধ্যে স্বীকৃত চুক্তি মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে। এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায়, ব্রাসেলস একটি চরমপত্র ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ পক্ষের দিকে, দাবি করেছে যে চুক্তি সংশোধনের পরিকল্পনা পরিত্যক্ত করতে হবে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগে। কিন্তু লন্ডন নিজস্ব অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে এবং এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো পথ নেই, যা খুব সম্ভব একটি ‘কঠিন’ ব্রেক্সিট পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এই গোলমালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিয়েছে। কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন যে ব্রিটেনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি আমেরিকা সমর্থন করবে না যদি এটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রত্যাহার চুক্তি ভঙ্গ করে।
    এসবের সঙ্গে যুক্তি হয়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতির খুব ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার এবং করোনা ভাইরাস অতিমারি পরিস্থিতি যা খুব উৎসাহজনক নয়। এই সব উপকরণের মিলন পাউন্ডের ওপর প্রচুর চাপ ফেলছে, নিকট ভবিষ্যতে এর জন্য ভালো কিছু দেখা যাচ্ছে না।
  • র্কিন ডলার/জেপিওয়াই। এবছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দশ দিন থেকে, জোড়াটি ক্রমশ 106.00-এর আশপাশে জমাট বাঁধছে। এবং যেমন বিশেষজ্ঞরা প্রত্যাশা করেছিলেন, এটা কখনো 105.10-107.00 চ্যানেল ছাড়তে সক্ষম হয়নি। স্টক মার্কেট পতনের প্রেক্ষাপটে, এই জোড়ার উভয় কারেন্সিই প্রতিরক্ষাকারী সম্পদের মতো ভূমিকা পালন করেছে, যা তাদের ছন্দোবদ্ধতা নিশ্চিত করেছিল এবং ট্রেডিং পরিধি আরও সংকীর্ণ 60 পয়েন্টে 105.80-106.40-এর মধ্যে। পাঁচ-দিনের পর্বের চূড়ান্ত সুর বাঁধা ছিল 196.10-এ।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। ফের একবার 12000 ডলারের ওপর পা রাখার ব্যর্থ চেষ্টা এবং এর পর 2-4 সেপ্টেম্বরে বিপর্যয়, বিটকয়েন থেকেছে মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টে, 10000 ডলার অঞ্চলে। গত সপ্তাহে বিটিসি/মার্কিন ডলার জোড়া অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিধি 10000-10350 ডলারে ট্রেডিং হয়েছে। বিয়ার্স ও বুল উভয়েরই শক্তি কমেছে : বিয়ার্স ইতিমধ্যে স্বল্পমেয়াদি লাভে স্থায়ী হয়েছে এবং বুল ইতিমধ্যে দীর্ঘ অবস্থান খুলেছে আগস্টের শেষের স্তর থেকে 20 শতাংশ ছাড়ে। অবশ্যই, উভয় পক্ষই তাদের পক্ষে সবকিছু ঘোরানোর দুর্বল প্রচেষ্টা করেছিল, গতিময়তা বৃদ্ধি হয়েছিল 9,850-10,500 ডলারে, যদিও সবকিছুই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায়, 11 সেপ্টেম্বর, যখন এই পর্যালোচনা লেখা হয়েছিল, মূল ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং হচ্ছিল 10300 ডলার অঞ্চলে। অবশ্যই, কেউ আশা করতেই পারে যে সপ্তাহান্তে মূল্যের তীক্ষ্ণ বৃদ্ধি হবে, বিশেষ করে রবিবার থেকে সোমবার রাতে। যদিও, অনুশীলন দেখায়, এরকম প্রবণতা মাত্র স্বল্পমেয়াদি।
    এটা মনে রাখতে হবে যে খুব সংকীর্ণ চ্যানেলে বিটকয়েনের গতিবিধি লেনদেনের সংখ্যা কমায়নি ও হ্যাশ রেট নতুন উচ্চতায় স্থাপনে বাধা দেয়নি। অ্যানালিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম গ্লাসনোড-এর মতে, 8 সেপ্টেম্বরে, বিটকয়েনের হ্যাশ রেট ছিল 156 Eh/s– এটি সর্বকালের নতুন উচ্চ। এর আগে হ্যাশ রেটের রেকর্ড ছিল 11 মে-তে, তৃতীয় হাভিঙের আগে। তখন এটি পৌঁছেছিল 152 EH/s-এ, কিন্তু দ্রুত পড়ে যায় 90 EH/s-এ।
    মাসিক লেনদেনের সংখ্যা 600000 অতিক্রম করেছিল। এ ছাড়া, দৈনিক লেনদেনের পরিমাণেও ভালো বৃদ্ধি পরলক্ষিত হয়েছে, যা পৌঁছেছিল 130.110 বিটিসি-তে, স্থাপন করেছিল বার্ষিক উচ্চতা। চেইনালিসিস-এর মতে, ছোট ও মাঝারি আকারের ট্রান্সফার, 10,000  ডলার পর্যন্ত, বিকশিত হয়েছিল 300  মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
    ক্রিপ্টো ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড ইনডেক্স মোটামুটি অপরিবর্তন ছিল এবং এখন আছে 41 পয়েন্টে (40 সপ্তাহ আগে)। ক্রিপ্টো মার্কেটের মোট ক্যাপিটালাইজেশন রয়েছে একই স্তরে, 334 বিলিয়ন ডলার।
    এবছরের ন্যূনতম মনে করলে, মার্চ 16, এটির পরিমাণ ছিল মাত্র 134 বিলিয়ন ডলার। তার মানে, গত ছয় মাসে, বৃদ্ধি হয়েছে 150 শতাংশ। একই সময়ে, বিটকয়েন ক্রমশ জমি হারিয়েছে। ওই একই সময়ে এর প্রাধান্য সূচকের পতন ঘটেছে 64.75 শতাংশ থেকে 57.45 শতাংশে। ইথেরিয়াম, অন্যদিকে, অনেক ভালো করেছে, 10.40 শতাংশ থেকে বৃদ্ধি 12.04 শতাংশ।
    উল্লেখযোগ্য যে উচ্চ লেনদেন মাশুলের জন্য ছোট রিটেলারদের কাছে এই এগিয়ে থাকা অল্টকয়েন ভার্চুয়ালি অ্যাকসেস-অযোগ্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এটি ‘তিমি’দের থেকে প্রচুর মনোযোগ পেয়েছে। সেজন্য, বিশ্লেষণী প্ল্যাটফর্ম স্যান্টিমেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইথেরিয়ামের মূল্য 30 শতাংশ পতনের মাত্র তিন দিন পর 68জন নতুন বৃহৎ বিনিয়োগকারী ধরে রেখেছিলেন 1000 থেকে 10000 ইথেরিয়াম (350000-3500000 ডলার) এবং কয়েনের ক্যাপিটালাইজেশনে কয়েক মিলিয়ন ডলার যোগ করেছেন। তবু, ইথেরিয়াম এখনও দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়ে গেছে এবং মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের নিরিখে, প্রায় 40 বিলিয়ন ডলার, অল্টকয়েনগুলির মধ্যে এক নম্বর স্থানে রয়েছে।

 

আগামী সপ্তাহের অনুমানের ক্ষেত্রে, বেশকিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞের মতামতের সংক্ষেপের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও গ্রাফিক্যাল বিশ্লেষণের বিভিন্ন পদ্ধতির ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। আসুন, আমরা শুরু করি এই সত্য থেকে যে ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর বা অসিলেটর কেউই 1.1700-1.2010 চ্যানেলে সাইডওয়ে মুভমেন্টের সাত সপ্তাহ পরেও বুদ্ধিযুক্ত সংকেত দিতে পারেনি, এবং শেষ করেছে এর কেন্দ্রে 1.1840-তে। বিশেষজ্ঞদের মতামতও সমানভাবে বিভাজিত। এবং এমনকি গ্রাফিক বিশ্লেষণ এই জোড়ার ওঠানামা এঁকেছে এই পরিধিতে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত। যদিও, চার্ট থেকে বিচার করা যায়, বিয়ার্সের শেষপর্যন্ত ভালো অবস্থা অর্জন করা উচিত, এবং অক্টোবরের শুরুতে শক্তিশালী ডলারে এটি চিহ্নিত হবে এবং ইউরো/মার্কিন ডলারের পতন ঘটবে 1.1600-তে।
    ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের চাহিদায় পতন এবং একটি ‘কঠিন’ ব্রেক্সিটের ভীতির কারণে অনেক বিশ্লেষকের আশা যে ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ইউরো এর অবস্থান শক্তিশালী করবে, জাপানি ইয়েনকে হঠিয়ে দিয়ে ডলারের সঙ্গে লড়বে সাফলের সঙ্গে, দৃঢ় প্রবণতা ছাড়াই।
    ক্রিস্টিন লাগার্ডের বিবৃতির উলটোদিকে, রয়টার্সের সূত্র দাবি করে যে, বিনিময় হারে ইসিবি মোটেও উদাসীন নয়, যদিও ব্যাংক চায় না এই কারণে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হোক। তাদের মতে, 1.2000 হার সাম্যের কাছেই এবং এই মুহূর্তে দুপক্ষের ক্ষেত্রেই মানানসই। একই সময়ে, সিটিগ্রুপ বিশ্লেষকদের বিশ্বাস যে ইউরো/মার্কিন ডলার কোট যদি আরও 5 শতাংশ বৃদ্ধি পায়, ইসিবি-র পক্ষে ইউরোকে দুর্বল করা ছাড়া কোনো পদক্ষেপ থাকবে না। উপরন্তু, রয়টার্সের তথ্যানুসারে, ইউরোজোনের দক্ষিণাংশের দেশগুলি ইতিমধ্যেই তাদের কারেন্সির সবলীকরণ সম্পর্কে বেশ নার্ভাস।
    এদিকে, ব্লুমবার্গের প্রথম সারির ইন্ডিকেটররা ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউরো/মার্কিন ডলারের আরও বিকাশের। এর কারণ হল পুরনো-বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুততর পুনরুদ্ধার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায়। এটা দ্রুততম জার্মানি ও নরওয়েতে, এরপরই রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন। কিন্তু বহিরাগতদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন।
    বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট হয়তো করা হবে ইউএস ফেডের মিটিঙে ও তার পর, বুধবার 16 সেপ্টেম্বর, এর কর্তৃপক্ষের সাংবাদিক সম্মেলনে। এবং খুব ক্ষীণ একটা আশা রয়েছে যে রেগুলেটর বর্তমান সুদের হার 0.25 শতাংশ হ্রাস করবে। কিন্তু যদি এটা হঠাৎ ঘটে, শক্তির ভারসাম্য ও বাজারের পরিস্থিতি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বদলে যাবে।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। পাউন্ড যে কারণে এর উড়ান দক্ষিণে ধারাবাহিক রেখেছে সেটা আমাদের পর্যালোচনার প্রথমাংশে বর্ণনা করা হয়েছে। ব্রিটিশ কারেন্সি এই পতন আটকাতে সমর্থ হবে, লন্ডন ও ব্রাসেলসের বর্তমানের উত্তপ্ত সম্পর্কে যদি কোনো হুমকি আশে তাহলে ঘুরে দাঁড়াবে এবং উপরের দিকে যাবে। পরিস্থিতি সত্যিই খুব গুরুতর, কেননা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভর করছে। এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অর্থনীতিও, যদি ‘কঠিন’ ব্রেক্সিট হয়, একটি বড় আঘাত পাবে।
    এই মুহূর্তে, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ (60 শতাংশ) প্রত্যাশা করছেন জোড়াটির আরও পতন ঘটবে। তাঁদের সমর্থন করেছে H4-এ 100 শতাংশ এবং D1-এ 80 শতাংশ ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর, পাশাপাশি উভয় সময়সীমার 85 শতাংশ অসিলেটরও। বুলের সমর্থকদের 40 শতাংশ, D1-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিসে, বাকি ট্রেন্ড ইন্ডিকেটররা এবং 15 শতাংশ অসিলেটর সিগন্যাল দিয়েছে যে জোড়াটি অতিরিক্ত ক্রীত, তাদের সঙ্গে রয়েছে। এটা ইঙ্গিত দেয়, যদি বিপরীত প্রবণতা না হয়, অন্তত একটি আসন্ন সংশোধন।
    এটা মনে রাখতে হবে যে সাপ্তাহিক থেকে মাসিক অনুমানে রূপান্তরের সঙ্গে, বিশ্লেষকদের সংখ্যা বেড়েছে 40 থেকে 70 শতাংশে, যারা জোড়াটির উত্তরে বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন (ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অভিঘাতে সংঘর্ষের একটি রিজলিউশনের জন্য আশা করা যায়)।
    সাপোর্ট লেভেল হল 1.2650, 1.2465 এবং 1.2250, রেজিস্ট্যান্স 1.3000, 1.3050, 1.3185, 1.3265। লক্ষ্য হল 1  সেপ্টেম্বরের উচ্চতা 1.3480।
    গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘটনা, এবং এগুলি আগামী সপ্তাহে প্রায় পুরোটা জুড়েই আছে, সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর অবশ্যই খেয়াল করতে হবে, যখন ব্রেক্সিট মেয়াদের ওপর ভোট দেবে পার্লামেন্ট এবং মুদ্রাস্ফীতি রিপোর্ট শুনুন। যুক্তরাজ্যে লেবার মার্কেট ডেটা প্রকাশ হবে মঙ্গলবার, 15 সেপ্টেম্বর, এরপরই কনজিউমার মার্কেট ডেটা 16 সেপ্টেম্বর। বৃহস্পতিবার, 17 সেপ্টেম্বর বর্ধিক গতিময়তা আশা করা উচিত, কেননা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মিটিং সেদিন অনুষ্ঠিত হবে, যা সুদের হার এবং কিউই কর্মসূচির অধীনে সম্পদ ক্রয়ের পরিমাণ সমাধা করবে।
  • মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই। 17 সেপ্টেম্বর, ব্যাংক অব জাপানের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে খুবই উচ্চ সম্ভাবনা যে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে। কোভিড-19 অতিমারি থেকে পুনরুদ্ধারের গতির ক্ষেত্রে, লিডারদের মধ্যে রয়েছে জাপান। সেজন্য, রেগুলেটরের কাছে তীক্ষ্ণ গতিবিধির কোনো কারণ নেই, এবং খুব সম্ভবত, এই ইভেন্ট কোনো বিস্ময় ছাড়াই হয়ে যাবে এবং বাজারে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
    টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসের ভিত্তিতে জোড়াটির কোনো গতিবিধি অনুমান করা অসম্ভব। সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক গতিময়তা 60 পয়েন্টে কমিয়ে এেছে এবং জোড়াটির চলতি জমাটবদ্ধকরণ 106.00-এর চারপাশে, ইন্ডিকেটরদের থেকে কোনো সুপারিশই আশা করা যায় না।
    কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অধিকাংশের (60 শতাংশ) আশা, জাপানি কারেন্সি শক্তিশালী হবে এবং জোড়াটি নেমে আসবে 105.10-এ, এবং তারপর, সম্ভবত, আরও 100 পয়েন্ট নীচে। বাকি 40 শতাংশ তাকিয়ে আছে 107.00-এর দিকে। যদিও, সবকিছুই ঘটবে মার্কিন ডলার/জেপিআই জোড়ার ক্ষেত্রে নিকট ভবিষ্যতে, প্রবণতা এবং গতিময়তার অভিমুখ সহ, ডলারের মতো ইয়েনের ওপর বিশেষকিছু নির্ভর করে না এবং যা ঘটে টোকিও থেকে 11.000 কিমি দূরে – নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে।

  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। গত সপ্তাহের ‘শ্রেষ্ঠ’ অনুমানের ক্ষেত্রে, প্রথম স্থান নিঃসন্দেহে অধিকার করেছে ডাকনাম প্ল্যানবি-এর অধীনে পপুলার স্টক থেকে ফ্লো রেশিও মডেল (S2F)-এর উদ্ভাবক। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, বিটকয়েন শুধু 288000 ডলারে পৌঁছবে না, বরং এটা দেখাবে আরও তিন গুণ বিকাশ। এটা যাবে, বিশ্লেষকরা বলেন, এই সত্য যে 1 বিটিসি বাড়বে মোটামুটি 864000 ডলারে 2024 সালের শেষে। এরকম জ্যোতিষসংখ্যায় ক্রিপ্টো সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের প্রতিক্রিয়া বোঝা যায়, প্ল্যানবি এর সঙ্গে যোগ করেছে যে এই সবকিছুই সম্ভব, কেননা বিটকয়েন ইতিমধ্যে পূর্ববর্তী দশার মতোই কিছু করেছে।
    আপনি যদি টাইম মেশিনকে ঘুরিয়ে দিয়ে 2024 থেকে নভেম্বর 2020-এ চলে যান, আপনি দেখতে পাবেন স্টক মার্কেটে একটি শক্তিশালী আঘাত যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হতে পারে। ঠিক এটাই ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি 10T হোল্ডিংস ও গোল্ড বুলিয়ন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান ড্যান টাপিয়েরো ভাবেন, ‘যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য না থাকেন’, তিনি নিজের ব্যাখ্যা প্রাঞ্জল করেছেন, ‘তাঁর নিয়ন্ত্রণের কোম্পানিগুলো স্টক মূল্য হারাবে। এবং এটা প্রভাব ফেলবে বৃহত্তম ইন্ডাইসের কোটে। সোনা ও বিটকয়েনের ক্ষেত্রে, এরা স্টক মার্কেট ভেঙে পড়লেও শান্ত হয়ে থাকতে সক্ষম হবে। এবং যদি এই মুহূর্তে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ নেগেটিভ মুল্যে সুদের হার কমায়, ডলার খুব দ্রুত দুর্বল হবে এবং এর ফলে’, ড্যান টাপিয়েরোর মতে, বিটকয়েনের জন্য মেগা বুল ইনসেন্টিভ হয়ে উঠবে।
    এবং এখন সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়ার্ধের জন্য অনুমান। বিটিসি ইনভেস্টর সেন্টিমেন্টের নতুন ইন্ডিকেটর উপস্থাপন করেছে অ্যানালিটিক্যাল রিসোর্স ক্রিপ্টোকোয়ান্ট, দেখায় যে বিটকয়েন ‘ক্রেতাদের কাছে বিটকয়েনের শক্তিশালী চাহিদা আছে » 10000 ডলারে। এই টুলকে বলা হয় ‘পোটেনশিয়াল বায়/সেল প্রেশার’। এর অপারেশনের নীতি হল স্টেবলকয়েনের ডিপোজিটে বিটকয়েনের এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ডিপোজিটের অনুপাত হিসেব করা, এবং এটি অনুমানের ওপর নির্ভর করে যে ফলাফলের সংখ্যা ট্রেডারের রুচির সঙ্গে বিপরীতভাবে আনুপাতিক।
    এই প্যারামিটার বর্তমানে বুলিশ সাইডের দিকে পক্ষপাতপূর্ণ।‘এক্সচেঞ্জগুলি বেশি স্টেবলকয়েন ও কম বিটকয়েন ধরে রেখেছিল এবছরের শুরুতে’, লিখেছেন কি ইয়াঙ্গ জু, শেষ করেছেন এই বলে : ‘আমার মতে বিটকয়েনে বুলিশ প্রবণতা এখনও সম্ভব।’
    60 শতাংশ সম্মত যে বিটিসি মার্কিন ডলার জোড়ার মাঝারি বিকাশের সম্ভাবনা 10,700-11,200 ডলার অঞ্চলে। বাকি 40 শতাংশ একে দেখছেন নিকট ভবিষ্যতে 9,500-10,350 ডলার পরিধিতে।

 

নর্ডএফএক্স অ্যানালিটিক্যাল গ্রুপ

 

বিজ্ঞপ্তি : এসব তথ্য আর্থিক বাজারে কাজের জন্য বিনিয়োগ বা পরামর্শ হিসেবে কোনো সুপারিশ নয় : এগুলি একমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে। আর্থিক বাজারে ট্রেডিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে ডিপোজিটকৃত ফান্ডের পরিপূর্ণ ক্ষতি হতে পারে।


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)