অগাস্ট 1, 2020

প্রথমে গত সপ্তাহের ঘটনাবলির মূল্যায়ন :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। মার্কিন অর্থনীতি শুধু শ্লথগতি হয়নি, এর দ্রুতগতিতে পতন ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি-তে এতাবৎকালের বৃহত্তম অবনমন ঘটেছে, বিয়োগ 32.9%। এই পতনের কারণ সবাই জানে, তা হল করোনা ভাইরাস অতিমারির প্রেক্ষিতে কোয়ারান্টাইন পন্থা। কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে অর্থনীতিকে শূন্যে আসতে না দিয়ে তারা কোভিড 19-এর বিস্তৃতি আটকাতে পারবে। কিছু প্রদেশ আর্থিক ক্রিয়াকলাপে নিষেধ না এনে কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থা কড়া করেছে এবং একটু অর্জনও করেছে।
    বিনিয়োগকারীদের সত্যিকারের হতাশ করেছে, এর ফলে মার্কিন ডলার ও স্টক ইনডাইস উভয়েরই সমান্তরাল পতন ঘটেছে। এই দুই ইন্ডিকেটর বসন্তে গিয়েছিল বিপরীতভাবে, ইউএসডি সূচক (ডিএক্সওয়াই) বেড়েছিল আর নাসডাক ও S&P500 পতন ঘটেছিল, এখন সবগুলিরই পতন ঘটেছে।
    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষিতে ইউরোপের পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয়, যেমনটা গত সপ্তাহে ম্যাক্রোইকোনমিক ইন্ডিকেটর দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে। সবদিক থেকে খতিয়ে বলা যায় যে জার্মানির জিডিপি পড়েছে মাত্র 10.1%, ইউরোজোনে 12.1%, জিডিপি-র ডেটা এবং ফ্রান্সের উপভোক্তা খরচের পাশাপাশি জার্মানির খুচরো বিক্রি বেশ আশা দেখাচ্ছে, যা ইউরোপিয়ান কারেন্সিকে শক্তিশালী করছে।
    ইউরো/মার্কিন ডলার টানা তিন মাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, 1998-এর পর সবচেয়ে শক্তিশালী দৃঢ়করণ এবং 10 বছরে সবচেয়ে তীক্ষ্ণ ঊর্ধ্বগতি। শুধু জুলাই মাসেই, ডলারের তুলনায় ইউরো শক্তিশালী হয়েছে 725 পয়েন্ট (5.6%), যা সেপ্টেম্বর 2010-এর পর দেখা যায়নি। এর ফলে, জোড়াটি 31 জুলাই, শুক্রবার পৌঁছেছিল স্থানীয় উচ্চতা 1.1908–এ, এরপর মাসিক প্রফিট ফিক্সিঙের ঢেউয়ে টেনে পিছনে যায় এবং সেশন শেষ করে 1.1775-এ।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। ইউরো/মার্কিন ডলারের পেছনে এই জোড়াটি উঠছে। ডলারকে 380 পয়েন্ট পেছনে রেখেছে পাউন্ড এবং প্রায় 1.3200-এ পৌঁছে থেমেছে 1.3170-এ। তারপর ঠিক ইউরোর মতো, জুলাইয়ের লাভ ছিল স্থির, এবং শেষ করেছে 1.3085-এ।
  • মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই। প্রায় গোটা সপ্তাহ জুড়ে জাপানি কারেন্সি তার অবস্থান শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার, 30 জুলাই, ইউএস জিডিপি ডেটা প্রকাশের পর। সেই বিন্দুতে, ডলারের মার্কে জোড়াটি চলে এসেছিল 104 ইয়েনের কাছে। যদিও শুক্রবার এই প্রবণতা ঠিক বিপরীত হয় এবং এটি ফিরে যায় প্রায় সেখানে যেখানে এটি পাঁচ-দিনের পর্ব শুরু করেছিল। শেষপর্যন্ত দাঁড়ায় 105.90-এ। এবং সেজন্য সপ্তাহটির জন্য কোট পরিবর্তন ছিল মাত্র 20 পয়েন্ট।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। মে মাসের মাঝামাঝি, যখন বিটকয়েন ছিল হাভড, সবাই অপেক্ষা করছিল যার জন্য সেটা অবশেষে ঘটেছে। 10000 ডলারের স্তর অতিক্রম করেছে বিটকয়েন এবং তারপর থেমেছে, পৌঁছেছিল মাত্র 11365 ডলার উচ্চতায়, তারপর সাইডওয়ে ট্রেন্ডে তারতম্য অস্পষ্ট হয়ে যায়, পিভট পয়েন্ট হিসেবে থাকে 11000 ডলারে।
    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের ধারাবাহিক পতন এবং স্টক মার্কেটের পতনের শুরুর কারণ হল প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির বিকাশ। ডলার একটি রক্ষণাত্মক সম্পদের ভূমিকা পালন করেছে, যেমনটা ছিল বসন্তে, এর মাঝে আতঙ্ক শুরু হল কোভিড-19 অতিমারির জন্য এবং বিনিয়োগকারীরা ফের প্রথাগত ব্যবস্থায় ফিরে গেল, যেমন মূল্যবান ধাতু ক্রয়ে, এবং পাশাপাশি ‘ডিজিটাল সোনা’ – বিটকয়েনে।
    বিটিসি/মার্কিন ডলার জোড়ার সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক আছে স্টক ইনডাইসের এবং ফিরে এসেছে এক্সএইউ/মার্কিন ডলারের সঙ্গে আন্তঃসমন্বয়ে। এটা আরও একবার দেখিয়েছে যে বড় সংস্থামূলক বিনিয়োগকারীরা বিটিসি-কে দেখে মূল আর্থিক সম্পদের একটি ‘সহায়ক’ হিসেবে। এব্যাপারে তর্ক করা কঠিন, কারণ ক্রিপ্টো মার্কেটের মোট ক্যাপিটালাইজেশন, যা পৌঁছেছে 330 বিলিয়ন ডলার, হল সমুদ্রে একটি বিন্দু ঐতিহ্যবাহী বাজারের তুলনায়।
    সেজন্য, গত সপ্তাহ জুড়ে, উচ্চ-গতির ওপর ক্যাপিটালাইজেশন বৃদ্ধি হয়েছে 44 বিলিয়ন ডলার অথবা প্রায় 15 শতাংশ। ক্রিপ্টো ফিয়ার ও গ্রিড ইনডেক্স লাফিয়েছে 75 (এক সপ্তাহ আগে)-এ, যার অর্থ কয়েনটি অতিরিক্ত ক্রীত এবং সম্ভাব্য সংশোধন নির্দেশ করে।
    উপরের দিকে যাত্রায়, প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সি শীর্ষস্থানীয় অল্টকয়েনকে টান দিয়েছে, যা দেখায় এমনকি ‘মাদার’ অ্যাসেটের চেয়ে বেশি বিকাশ : বিটকয়েন (বিটিসি/মার্কিন ডলার) 17 শতাংশ, রিপল (এক্সআরপি/মার্কিন ডলার) 19 শতাংশ, ইথেরিয়াম (ইটিএইচ/মার্কিন ডলার) 21 শতাংশ, লাইটকয়েন (এলটিসি/মার্কিন ডলার) 30 শতাংশ। দীর্ঘ মেয়াদে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে সবার উপরে সম্ভাবনা রয়েছে ইথেরিয়ামের। 75 শতাংশ সম্ভাব্যতা নিয়ে এই কয়েন বছরের শেষে পৌঁছতে পারে 400 ডলার মূল্যে।
    ক্রিপ্টো বাজারের বিকাশ অবশ্যই সপ্তাহের প্রধান খবর হয়ে উঠেছিল, কিন্তু আরও কেউ আছে যা ভবিষ্যতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেজন্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা ফেডারেল কোর্ট অবশেষ বিটকয়েনকে টাকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বলেছেন ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেরিল হাওয়েল, কয়েন নিনজা সিইও ল্যারি ডিন হার্মনের মামলার বিচারে এটা বলেন তিনি, হার্মন 311 মিলিয়ন ডলার লন্ডারিঙে অভিযুক্ত। তিনি বলেছেন টাকার ধারণা হল ‘সাধারণত বোঝায় সংবহনের একটি উপায়, পেমেন্টের একটি পদ্ধিত অথবা সঞ্চয়ের পন্থা। এবং বিটকয়েনে এসবই আছে।’ স্মরণ করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী আইন আছে, এবং এরকম একজন বিচারপতির সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে।

 

আগামী সপ্তাহের অনুমানের ক্ষেত্রে, বেশকিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞের মতামতের সংক্ষেপের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও গ্রাফিক্যাল বিশ্লেষণের বিভিন্ন পদ্ধতির ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। ফেড আধিকারিকরা গত সপ্তাহে স্বীকৃতি দিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি সরাসরি নির্ভর করছে অতিমারি পরিস্থিতির ওপর। স্বাভাবিকভাবে, একই কথা খাটে ইউরোপের ক্ষেত্রেও। যদিও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এসব তথ্য সত্ত্বেও, ইউরোপিয়ানরা রাজনীতিকরা প্রত্যেকবার একটি ঐকমত্যে পৌঁছয়, এটা কঠিন, কিন্তু তারা এটা করে। কোয়ারান্টাইন পন্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলির নেতারা পৃথকভাবে নিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সমন্বয় এবং কার্যকারিতা ছিল, যা আর্থিক পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এটা পরিষ্কার যে আমেরিকার অবস্থা ইউরোপের তুলনায় বেশ খারাপ, যা ইউরো/মার্কিন ডলার জোড়ার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত।
    H4-এর 75 শতাংশ ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর এবং D1-এ 100% সবুজ রঙের, পাশাপাশি উভয় সময়সীমার 85 শতাংশ অসিলেটরও। এইসঙ্গে 45 শতাংশ বিশেষজ্ঞ আশা করছেন ইউরোর ধারাবাহিক বিকাশ, যা সমর্থন করেছে D1-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস। লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্তর 1.2000, এটা অতিক্রমের পর মাঝারি মেয়াদের পথ 1.2500 খুলবে।
    যদিও সেপ্টেম্বর 2017-র সাপেক্ষে আমরা দেখি 1.2000 স্তরে পৌঁছনোর পর দুমাসের সংশোধন 1.1550 এসেছে, এবং একমাত্র এটা শেষ হবার পর জোড়াটি পৌঁছেছে 1.2500 উচ্চতায়।
    অবশ্যই, তিন বছর আগে কোনো করোনা ভাইরাস অতিমারি ছিল না এবং এখন সবকিছুই পৃথক পরিস্থিতি অনুযায়ী চলছে। যদিও 55 শতাংশ বিশ্লেষকের মতে, ডলারকে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। এবং তাৎক্ষণিক নজরের ভিত্তিতে তাঁদের বিশ্বাস জোড়াটি 1.1650-1.1700 অঞ্চলে নামতে পারে, যা H4-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস নিশ্চিত করেছে এবং 15% অসিলেটর জানিয়েছে যে সংকেতটি অতিরিক্ত ক্রীত।
    আগামী সপ্তাহের জন্য, আমাদের নজর দেওয়া উচিত আইএসএম বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্সের ইন্ডিকেটরদের দিকে মার্কিন নির্মাণ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে (প্রকাশিত হবে যথাক্রমে 3 ও 4 আগস্ট), পাশাপাশি লেবার মার্কেট ডেটা (এনএফপি), প্রথাগতভাবে প্রকাশিত হয় মাসের প্রথম শুক্রবার।
    এটা মনে রাখা উচিত যে মাঝারি মেয়াদে, সংখ্যাগরিষ্ঠ (80%) বিশেষজ্ঞ আশা করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডলারকে উন্নত করবে এবং ফিরবে 1.1000-1.1300 স্তরে।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। ইউরো মার্কিন/ডলারের মতো নয়, জোড়াটি অতিরিক্ত ক্রীত সংকেত দিয়েছে তাৎপর্যপূণভাবে আরও অসিলেটর : H4-এ 15 শতাংশ এবং D1-এ 35 শতাংশ। H4-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস দেখাচ্ছে দক্ষিণে। কিন্তু H4-এ ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর 90 শতাংশ এবং D1-এ 100% – এখনও উত্তরের দিকে নির্দেশ করছে।
    বিশেষজ্ঞদের মধ্যে, অধিকাংশই বিয়ার্সের পক্ষে - W1-এ 60 শতাংশ এবং MN-এ 80 শতাংশ – নির্দেশ করছেন ব্রিটিশ কারেন্সির শক্তি সম্পর্কে বাজার অনিশ্চিত। প্রকৃতপক্ষে, কিছুটা বন্ধ্যা থাকলেও, ব্রেক্সিটের সঙ্গে যুক্ত সমস্যা চলে যায়নি।
    যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে কিছু স্পষ্টতা দেওয়া হবে বৃহস্পতিবার, 6 আগস্ট, যখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ড মিলিত হবে, এর আর্থিক নীতি রিপোর্ট প্রকাশিত হবে এবং সুদের হার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এইসঙ্গে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অ্যান্ড্রু বেইলি তারপর বক্তব্য পেশ করবেন ট্রেডার ও ইনভেস্টরদের স্বার্থে।
    এদিকে, জিবিপি/মার্কিন ডলার জোড়ার জন্য নিম্নোক্ত স্তরগুলি চিহ্নিত করা যেতে পারে : সাপোর্ট - 1.3000, 1.2900, 1.2770  এবং 1.2670, রেজিস্ট্যান্স - 1.3200 এবং ডিসেম্বর ২০১৯ উচ্চতা, 1.3515।
  • মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই। H4-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস দ্বারা সমর্থিত 60 শতাংশ বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে আগামী কয়েকদিন এই জোড়াটি 104.00 স্তরে যেতে ফের একবার চেষ্টা করবে। এবং এতে সফল হবে না এবং একমাসের মধ্যে ফিরে আসবে 106.00 এলাকায়, এবং তারপর আরও উঁচুতে উঠবে, 106.60-108.00 অঞ্চলে। বাকি 40 শতাংশ বিশ্লেষকের মতে, সাউথ রি-ব্রেক করার কোনো প্রচেষ্টা হবে না এবং জোড়াটি তৎক্ষণাৎ উঠবে 108.00 উচ্চতায়।
    গত সপ্তাহে জোড়াটির অগ্রগতি এবং বিপরীত গতির পর, H4-এ ইন্ডিকেটরদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। কিন্তু D1 এখনও লাল প্রাধান্য বিস্তার করে আছে, 80% অসিলেটর এবং একই সংখ্যক ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর এতে রাঙিয়ে নিয়েছে নিজেদের।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। গ্লাসনোড বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্য 10000 ডলারের মানসিক বাধা অতিক্রম করার পর মাইনাররা যত বিটকয়েন মাইন করেছিলেন সেটা ধরে রাখতে শুরু করবেন। এটা নির্দিষ্ট একটা ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে বাজারে এবং কোটেশনের বিকাশে অবদান জোগাবে।
    হেইসেনবার্গ ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নিয়ার ম্যাক্স কাইজারের মতে, প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সি অবশ্যই 20000 ডলারের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভাঙবে এবং দাম উঠবে 28000 ডলারে। সত্যি, এই অনুমানের বিরোধীও অনেকে রয়েছেন। ‘বিনিয়োগের জন্য বিটকয়েন আকর্ষণীয়। তবে, 28000 ডলারে উঠবে বলে কাইজার যেমন বলেছে, সেটা প্রায় অসম্ভব’, বলেছেন ডেটা সেন্টার সিক্স-নাইনস-এর বিলিয়নিয়ার সের্গেই ট্রোশিন, ‘বরাবরের মতো, প্রথম হাইপ হয় সবচেয়ে শক্তিশালী, অন্যান্য হাইপ ইতিমধ্যেই কম। হয়তো যখন বিটকয়েন 17000-18000 ডলারে উঠবে, অনেকেই লাভ স্থায়ী করতে শুরু করবেন, সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করবেন।’
    ব্লুমবার্গে বিশ্লেষকরা আরও হালকা অনুমান করেছেন। তাঁদের বিশ্বাস যে যদি সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পরিবর্তিত না হয়, বিটকয়েনের লক্ষ্য হবে 2019-এর উচ্চতা 12734 ডলারে।
    বিশ্লেষকদের গড় অনুমানের জন্য, তাঁদের 60 শতাংশ আশা করছেন অদূর ভবিষ্যতে এটি সংশোধন এবং জোড়াটির একটি পতন 10000 ডলার রেজিস্ট্যান্সে। বাকি 40 শতাংশ ব্লুমবার্গের অনুমানে সহমত। একই সময়ে, সবচেয়ে সতর্ক বিশেষজ্ঞরা ক্রিপ্টো প্রবণতার গতিময়তার বিষয়ে কিছু বলেননি। এভাবে, ডিসেম্বর 2017-তে ফিউচার লঞ্চ হয়ে উঠেছে ক্রিপ্টো উইন্টারের সূচনাবিন্দু, এবং প্রথম মাস এবং 2020-এর অর্ধেকে উল্লেখযোগ্য বিকাশের পর বিটকয়েন নেমে গেছে 3830 ডলারে, ডিজিটাল কারেন্সি মার্কে সবার অস্তিত্বকে সংকটে ফেলে দিয়েছে।
    তবে যাঁরা এরকমই অবনমনের ভয় করছিলেন তাঁদের জন্য ভালো খবর আছে। বিটকয়েনের শিল্পের অন্যতম বর্ষীয়ান আব্রা প্ল্যাটফর্ম ক্রিপ্টোকারেন্সি ও স্টেবলকয়েনে ডিপোজিটে আয় করতে ফিচার যুক্ত করেছেন। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুসারে, ট্রুইউএসডি (টিইউএসডি), টেদার (ইউএসডিটি) এবং ইউএসডি কয়েন (ইউএসডিসি) সবচেয়ে লাভজনক – বার্ষিক 9 শতাংশ। বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামে ডিপোজিটের বার্ষিক রিটার্ন হল যথাক্রমে 4.1 এবং 4.0 শতাংশ। আব্রা প্রস্তাবিত হার প্রকৃতার্থেই ডলার বা ইউরোতে ব্যাংক ডিপোজিটের সুদের চেয়ে বেশি, যা ভালো খবর। কিন্তু এসব ডিপোজিটের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে – দ্য ব্লক-এর সঙ্গে কথাবার্তায় আব্রার প্রতিনিধি বলেছেন যে খুব দ্রুত হার (রেট) সংস্কার হবে। এবং এটা হবে খুবই দুঃখজনক যদি তারা চলে যায় শূন্যে অথবা সবমিলিয়ে চলে যায় নেতিবাচক অঞ্চলে।

 

নর্ডএফএক্স অ্যানালিটিক্যাল গ্রুপ

 

বিজ্ঞপ্তি : এসব তথ্য আর্থিক বাজারে কাজের জন্য বিনিয়োগ বা পরামর্শ হিসেবে কোনো সুপারিশ নয় : এগুলি একমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে। আর্থিক বাজারে ট্রেডিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে ডিপোজিটকৃত ফান্ডের পরিপূর্ণ ক্ষতি হতে পারে।


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)