এপ্রিল 25, 2020

প্রথমে, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোর একটা পর্যালোচনা:

  • EUR/USD মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের জন্য অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অর্থ বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে ইউরোজোনে সে সিদ্ধান্ত নিতে বিরাট লম্ব প্রক্রিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে চুক্তি করার প্রয়োজন হচ্ছে। আর তাতে ইউরোর উপর চাপ বাড়া ছাড়া গতি ছিল না। তাই, তাদের 23শে এপ্রিলের বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিল সম্ভবত অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্যের জন্য একটা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করার মধ্যে দিয়ে যে ইউরোপীয় কমিশন আনুমানিক €1 ট্রিলিয়ন অঙ্কের একটি পুনরুদ্ধার তহবিল (রিকভারি ফান্ড) তৈরি করবে, যদিও, সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে সে ব্যাপারে তারা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
    মার্কিন প্রশাসন প্রতিনিয়ত তাদের অর্থব্যবস্থায় টাকা ঢেলে চলেছে। পরবর্তী কিস্তির প্রায় $0.5 ট্রিলিয়ন ঢালার সিদ্ধান্ত, যার বেশিরভাগটা ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে সাহায্যের জন্য দেওয়া হবে, গত সপ্তাহেই নেওয়া হয়েছে। দৃশ্যত, এই ধরনের পদক্ষেপ ফলফাল দিতে শুরু করছে। অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকারভাতা নেবার জন্য আবেদনের আসার সংখ্যাটা 15% শতাংশ কমেছে, আবার অভোগ্যপণ্যের জন্য বায়নার হার -0.8% থেকে বেড়ে 0.1% হয়েছে।
    কর্মশক্তির এই বন্টনের ফলে ইউরো সুচারুরূপে 100 পয়েন্ট মতো দুর্বল হয়েছে, যা আমাদের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের (60%) দেওয়া পূর্বাভাসকে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত করে, যারা এই জুটিকে 1.0750-এর অবলম্বন অঞ্চলে দেখার প্রত্যাশা করেছিলেন। এরপর একটা সংশোধন আসে এবং এই জুটি 1.0820-এ এসে শেষে করে;
  • GBP/USD। ব্রিটিশ মুদ্রার ব্যাপারে বিশ্লেষকদের দেওয়া পূর্বাভাস খুবই অস্পষ্ট ছিল। এই জুটির গতিবিধির ক্ষেত্রে, গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা তার অত্যন্ত সঠিক বর্ণনা করেছেন যা এই জুটির সপ্তাহের প্রথমার্ধের অবস্থার পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং যেখানে এর পরবর্তী সংশোধনের ব্যাপারে ও উত্তরমুখী গতির ব্যাপারেও বলা হয়েছিল। আর তা-ই ঘটেছিল: প্রথমে এই জুটি তাদের স্থানীয় নিম্নস্তর 1.2245-এ পড়ে যায়, তারপর 1.2415-র স্তরে উঠে আসে, এবং তাদের পাঁচ দিনের সপ্তাহটা তারপর 1.2365-র অঞ্চলে গিয়ে শেষ করে;
  • USD/JPY। 107.00-র অঞ্চল কয়েক মাস এবং এমনকি কয়েক বছর ধরে একটি উল্লেখযোগ্য অবলম্বন/প্রতিরোধের স্তর হয়ে রয়েছে। এরই কাছাকাছি এই জুটি গত কয়েকদিন ধরে ঘোরাফেরা করছে। বিশ্লেষকদের একটা বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (70%) প্রত্যাশা করেছিলেন যে, নিম্নগতি (বিয়ার) এই স্তরটাকে উপরে থেকে নিচ অবধি ভাঙ্গার একাধিক চেষ্টা করে যাবে, যেটা তারা গোটা সপ্তাহ জুড়ে করেছে। কিন্তু, তার কোনটাই সফল হয়নি, বিয়ার এমনকি সম্পদপূর্ণ দিগন্তেও (ট্রেজার্ড হরাইজন) পৌঁছাতেও সক্ষম হয়নি।   ফলস্বরূপ, এই জুটি খুব সংকীর্ণ একটা চ্যানেলে, 107.25-108.00, থেকে গেছে, যার মধ্যে, 107.40-র স্তরে, এই জুটি তাদের কারবারি অধিবেশন শেষ করেছে;
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। গত সপ্তাহটা বিটকয়েনের জন্য খুব সফল একটা সপ্তাহ ছিল। সপ্তাহের গোটা প্রথমার্ধ জুড়েই, $7,000-এর উচ্চতা ধরে রাখার জন্য একটা সংগ্রাম চলেছে। সেটা শুরু হয় 20শে মার্চ থেকে, এবং, যেমনটা বেশিরভাগ বিশ্লেষক (60%) প্রত্যাশা করেছিলেন, জয়টা, পরিশেষে, ঊর্ধ্বগতির (বুল) সাথেই ছিল। গত বৃহস্পতিবার, 23শে এপ্রিল, প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দর $7.750-র অঙ্কে পৌঁছায়— সর্বোচ্চ মূল্যের বিটকয়েন অবশেষে 12-13 মার্চের বাজারের ধ্বস পরবর্তীতে উপরে উঠতে সক্ষম হয়। এইভাবে, এই সময়কালের মধ্যেকার বৃদ্ধি প্রায় 100%-এ পৌঁছে যায়।
    BTC-র দর অর্ধেক হওয়া আসন্ন ঘটনার সাথে সাথে, একাধিক বিশ্লেষকদের মতে, বিটকয়েন এবং মার্কিন শেয়ার বাজার (S&P 500) এবং তেলের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উন্নতির দিকটাও ক্রিপ্টোবাজারকে সাহায্য করেছিল। বিটকয়েন এখনও একটা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ, কিন্তু এটা ক্রমেই আরও বেশি বেশি করে ঐকান্তিক বিনিয়োগকারীরা এদিকে ঝুঁকছেন। ব্লুমবার্গের মতো প্রামাণ্য প্রকাশনায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গোটা বিশ্ব যেহেতু এখন সংকটের মধ্যে, এবং রাষ্ট্রগুলো প্রচুর পরিমাণে টাকা ছাপাচ্ছে, বিটকয়েনের একটা সুযোগ রয়েইছে সোনার ডিজিটাল সংস্করণের মতো প্রকৃত মুদ্রার সমতুল মুদ্রা হয়ে ওঠার। আর গবেষকদের বিশ্বাস, বিটকয়েন সাফল্যের সঙ্গেই সেই কাজটা সামলাতে পারবে।
    BTC/USD জুটির গা ঝাড়া দিয়ে $7,750-র উচ্চতায় উঠে আসার পর, গত 24শে এপ্রিল, শুক্রবার, তার আবার ঘুড়ে যায়, এবং এই জুটি স্পষ্টতই সংকীর্ণ একটা চ্যানেল $7,440-7,600-এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী গতিতে চলতে থাকে। ক্রিপ্টোবাজারের মোট মূলধনের পরিমাণ $215 বিলিয়ন পার করে গেছে, যা গত সপ্তাহে মোটামুটি 7% যোগ করেছে, এবং ক্রিপ্টো ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড সূচক 15 থেকে বেড়ে 20-তে পৌঁছেছে।
    শীর্ষস্থানীয় অল্টকয়েনগুলোর ক্ষেত্রে, সেগুলোর বৃদ্ধি অনেক বেশি পরিমিত ছিল।  ইথিরিয়াম (ETH/USD) 8% বেড়েছে, রিপল (XRP/USD) 2.5%, এবং লিটকয়েন (LTC/USD) এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে তাদের পিভোট পয়েন্ট স্তরে ফিরে যায়;
  • শেয়ার বাজার। NordFX ব্রোকারেজ কোম্পানি যেহেতু তাদের গ্রাহকদের শুধু ফোরেক্স আর ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচারই সুযোগ দেয় না বরং শেয়ার ও শেয়ার সূচকগুলোও কেনাবেচার ও সেই সঙ্গে বিশেষ বিনিয়োগমূলক তহবিলগুলোতে বিনিয়োগেরও সুযোগ দেয়, তাই আমরা আমাদের পর্যালোচনাকে প্রসারিত করে আর্থিক বাজারগুলোর এইসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
    মার্কিন সেনেটে অতিরিক্ত $ 484 বিলিয়ন আর্থিক সহায়তা বরাদ্দের ব্যাপারে আইন পাস হওয়ার খবরের জন্য মার্কিন শেয়ার বাজার সম্প্রতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরারম্ভ হওয়ার প্রত্যাশাগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদগুলোর বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুটো রাজ্যে ইতিমধ্যেই লক-ডাউন আংশিক তুলে নেবার ঘোষণা করেছে, এবং একাধিক রাজ্য সেই পথেই হাঁটার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়াও একাধিক ইউরোপীয় দেশগুলোতেও সীমাবদ্ধতা শিথিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
    গত সপ্তাহে, অনলাইন পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয়েরা, যেমন আমাজন, নেটফ্লিক্স, অ্যাপল, দুর্দান্ত প্রদর্শন করেছে, যদিও আমাজন উপভোক্তাদের পছন্দের বিষয় ছিল, যেখানে অ্যাপল আর গুগুল যোগাযোগ পরিষেবার। কিন্তু তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ার, এই “কালো সোনার” নিকটতম ফিউচার ঋণাত্মক অঙ্কে নেমে যাবার পরিস্থিতিতে, তাদের মালিক বা কারবারি কাউকেই খুশি করতে পারেনি, যারা এর জন্য দীর্ঘসময়ের পজিশন নিয়ে রেখেছিল।

 

আগামি সপ্তাহের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, একাধিক বিশ্লেষকদের মতামতগুলোকে, ও সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও গ্রাফিক্সভিত্তিক বিশ্লেষণের বহুবিধ পদ্ধতির ভিত্তিতে করা পূর্বাভাসগুলোকে একত্রিত করে, আমরা নিম্নোক্ত কথাগুলো বলতে পারি:

  • EUR/USD। মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভ খুব ভাল অঙ্কের নগদ টাকার জোগান দিয়ে যাওয়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা, তত্ত্ব অনুযায়ী, ডলারের অবমূল্যায়নের কারণ হওয়া উচিৎ। কিন্তু সেটা শুধু তত্ত্বই। পূর্বাভাসগুলো অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেনট ঘাটতি (ডেফিসিট) $3.8 ট্রিলিয়ন বা GDP-র 18.6% হতে চলেছে, এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণ GDP-র 107% অবধি বৃদ্ধি পেতে চলেছে। তবে, এই ঋণের সুদ মেটানোর (সার্ভিসিং) খরচ একই গ্রহণযোগ্য স্তরে, অর্থাৎ GDP-র 2%-ই থেকে যাবে। এর কারণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডগুলোর সুদের হার কমা। অধিকন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাইরের দেশগুলোর ঋণ নেবার চাহিদা এখনও বেশ চড়া, যা ফেডেরাল রিজার্ভকে আরও কিছুটা নরম আর্থিক নীতি গ্রহণের সুযোগ করে দেবে। নিঃসন্দেহে, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক মন্দার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না, কিন্তু ইউরোপীয় অর্থব্যবস্থার ক্ষতি আরও অনেক ভয়াবহ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে, প্রথমেই, আমাদের সুদের হার কমানোর ব্যাপারে ফেডেরাল রিজার্ভ ও ECB-র সিদ্ধান্তগুলোর দিকে এবং পরিচালকবর্গের মন্তব্যগুলোর দিকে নজর দিতে হবে, যা 30শে এপ্রিল ঘোষিত হতে চলেছে। তাছাড়াও, গত বৃহস্পতিবার, একগুচ্ছ মাইক্রোইকোনমি সংক্রান্ত সূচক প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের শ্রমবাজারের ডেটাগুলো। সেই সঙ্গে, আমরা ইউরোজোনের উপভোক্তা বাজারের অবস্থা ও GDP সম্পর্কেও জানতে পারব।
    একদিন আগে, বুধবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের GDP-র ডেটা প্রকাশিত হবে, এবং একদিন পরে, শুক্রবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পের ISM এবং কর্মসংস্থানের সূচকগুলো প্রকাশিত হবে।
    এই পূর্বাভাসটি লেখার সময়, বিশ্লেষকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (80%), যাদেরকে অসিলেটরগুলোর 70% এবং D1-এর প্রবণতার সূচকগুলোর 90% সমর্থন করেছে, ডলারের আরও শক্তিশালী হওয়া এবং এই জুটির পতনের প্রত্যাশা করেছে। অবলম্বনের স্তরগুলি হল 1.0775, 1.0725 এবং লক্ষ্য হল, 1.0650।
    মাত্র 20% বিশেষজ্ঞ এই জুটির বৃদ্ধির পক্ষে রায় দিয়েছে, যারা H4-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণকে তাদের পাশে পেয়েছে। প্রতিরোধের স্তরগুলি হল 1.1000, 1.1065, 1.1100 এবং 1.1150।

  • GBP/USD। যেমনটা আমরা ইতিমধ্যেই লিখেছি, ব্রিটেন করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে খারাপ প্রভাবিত দেশ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। Brexit-এর সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলিও এখনও ঘুরে যায়নি। তবে, বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে, EU থেকে সরে আসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সমস্যাগুলোর চূড়ান্ত সমাধানকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হবে বা, অন্তত, এই বর্তমান পরিস্থিতিতে, ব্রিটিশরা ইউরোপের সঙ্গে আরেকটু সুবিধাজনক শর্তে দর কষাকষি করতে সমক্ষ হবে।
    বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ এই জুটির পতনের প্রত্যাশা করেছে, যেমনটা তারা EUR/USD-র ক্ষেত্রে করেছে। তবে, এই ক্ষেত্রে তাদের সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্যভাবে কম – 60%। প্রবণতা সূচকগুলির 85% এবং D1-এর অসিলেটরগুলির মাত্র 40%-এর রং এখন লাল। অসিলেটরগুলোর 15% এই জুটির বৃদ্ধির পক্ষে রায় দিয়েছে, বাকিরা কোন মতামত দেয়নি। D1-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণ প্রথমে এই জুটির 1.2200-এর হরাইজনে পতনের, এবং তারপর 1.2525-এর উচ্চতায় উত্থানের প্রত্যাশা করছে।
    অবলম্বনের স্তরগুলি হল 1.2245, 1.2200, 1.2165, 1.2000। প্রতিরোধের স্তরগুলি হল 1.2485, 1.2525, 1.2650 এবং 1.2725;
  • USD/JPY। এই জুটির ব্যাপারে কেউ-ই এখন বিশেষ চিন্তিত নয় বলেই মনে হচ্ছে। আর ব্যাংক অব জাপান তাদের আগামি 28শে এপ্রিল, মঙ্গলবারের বৈঠকে যা-ই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, তাতে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত কোনভাবেই প্রভাবিত হবে না। যদিও, উচ্চ সম্ভাবনা-সহ, জাপানি নিয়ামকদের থেকে কোন রকম চমক প্রত্যাশা করা উচিত হবে না।
    দুটি সময়কাঠামোতেই সূচকগুলো বিপুলাংশে লাল (75-100%), যা এই ইঙ্গিত দেয় যে, নিম্নগতি (বিয়ার) আবার ছুটে এসে 107.00-এর অবলম্বনের স্তরটাকে ভেঙ্গে দিয়ে যাবে। যদি তা সফল হয়, তাহলে এই জুটি 105.80-এর হরাইজনে পড়ে যেতে পারে। পরবর্তী লক্ষ্যগুলো হল 105.00 এবং 104.40, কিন্তু গত সপ্তাহের চূড়ান্ত অস্থিতিশীলতার কারণে, তাদের এই লক্ষ্যে পৌঁছানোটা সম্ভব নয়।
    বিশেষজ্ঞরা সম্ভবত সংকীর্ণ সেই চ্যানেলটার দিকে তাকিয়ে আছে যেখানে এই জুটি আটকে ছিল। অতএব, সূচকদের বিপরীতে, তাদের মতামতগুলো প্রায় সমান-সমান ভাগে বিভক্ত হয়ে রয়েছে: তাদের 55% নিম্নগতির পক্ষে, আর 45% ঊর্ধ্বগতির। নিকটতম প্রতিরোধ হল 108.00, তারপর 108.50 এবং 109.50;
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। সম্প্রতি প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য অত্যন্ত সফল বছরের পূর্বাভাস দিয়ে অনেক বেশি কথা শোনা গেছে। কারণগুলোও, মে মাসে বিটকয়েনের দর অর্ধেক হয়ে যাবার সাথে সাথে, বহুবারই শোনা গেছে। সেটা হল একটা সাধারণ মাইক্রোইকোনমি সংক্রান্ত ঋণাত্মক পটভূমি, কেন্দ্রীয় সরকারি ব্যাংকগুলোর বেশি বেশি করে টাকা ছাপানো, ক্রমবর্ধমান বেকারিত্বের সংখ্যা এবং তেলের দামে পতন। নির্দিষ্ট করে এই সব পূর্বাভাসগুলোকে ধন্যবাদ, ShapeShift-এর CEO এরিক ভুরিজ মনে করেন যে, বারো মাসের মধ্যে বিটকয়েনের বিনিময় দর $ 50,000-এ পৌঁছে যেতে পারে, সম্ভাবনার হার 80%।
    বিনিয়োগ বিষয়ক কোম্পানি Morgan Creek Digital-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যান্থনি পমপ্লিয়ানো ভুরিজের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন, এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে যে, BTC এখন নতুন দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছে: বর্তমান স্তরগুলো থেকে $100,000 ওঠা অবধি।
    ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্লেষক ডেভ দ্য ওয়েভ আরেকটা পূর্বাভাস দিয়েছে। গত জুলাই, 2019-এ উনি BTC-র $11,600 থেকে $6,000-এ পতনের সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন, এই প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সির একটা অধিবৃত্তসদৃশ (প্যারাবোলিক) পতনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এখন, তিনি তার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসকে হালনাগাদ (আপডেট) করেছেন BTC-র দামের ইতিহাসের ভিত্তিতে রেখা নমুনা (কার্ভ মডেল) ব্যবহার করে। তার মতে, বিটকয়েনের অস্থিতিশীলতা কমে যাবে, কিন্তু তারপরও এটা বেশি কয়েকটা উত্থান-পতন দেখবে। ডেভ দ্য ওয়েভ আশা করছেন আগামি 2023 সালের মধ্যে এই প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সির দর বৃদ্ধি পেয়ে $130,000-এ পৌঁছাবে এবং তারপর ধীরে ধীরে কমতে কমতে  $40,000-এ এসে দাঁড়াবে। তারপর, বিটকয়েনের বিনিময়মূল্য আবার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে, এবং 2029 সালের মধ্যে এর দর $400,000-এ পৌঁছাতে পারে।
    ব্লুমবার্গের বিশ্লেষকগণ তাদের মধ্য-মেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে অস্থিরতার কমার প্রত্যাশা করেছেন, এবং সেটা, তাদের মতে, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা পর্যবেক্ষণ: গত 2015-র অক্টোবর মাসে যে অস্থিরতাটা দেখা গেছিল তা ছিল অস্বাভাবিক রকমের কম মাত্রার অস্থিরতা যার ফলস্বরূপ ঊর্ধ্বমুখী ধারাবাহিক গতির (বুল ব়্যালি) অগ্রদূত ছিল, যখন বিটকয়েনের দাম 2017-র ডিসেম্বরে ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তারা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের ব়্যালি এখন আবারও হতে পারে।
    বিশেষজ্ঞদের মধ্যে 65%-এর প্রত্যাশা হল BTC/USD জুটি আগামি সপ্তাহে উপরে উঠবে, যদিও এখানে লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই পরিমিত রাখা হয়েছে এবং তা $100,000 থেকে অনেকটাই দূরে, এবং $ 400,000 থেকে তো বটেই। ঊর্ধ্বমুখী গতির জন্য ন্যূনতম কাজ হল, তাদের মতে, এই জুটিকে $7,750-8.250-এর মধ্যে সুরক্ষিত রাখা। আর তারপর, সেখান থেকে ঠেলে তুলে, $ 9,000-এর প্রতিরোধকে ভেঙ্গে ফেলা।
    বাকি 35% বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, এই জুটি  of experts believe that the pair will continue to fluctuate at the level of $6,700-7,400-র স্তরেই ওঠা-নামা চালিয়ে যাবে, আর যদি নিচের সীমা ভেঙ্গে যায়, তাহলে এই জুটি মোটামুটি $6,000-এর অবলম্বন স্তরে নেমে যাবে।  
  • শেয়ার বাজার। গত সপ্তাহে, আমাজন, নেটফ্লিক্স এবং অ্যাপল ইত্যাদির মতো অনলাইন পরিষেবাগুলোর কারবার শীর্ষস্থানে ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামি দিনগুলোতেও আমরা “বিরাট পাঁচ TECH” সংস্থার কথা শুনতে পাব।
    ই-কমাস ও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসার মহিরূহ আমাজন লক-ডাউনের কারণে স্পষ্টতই ফায়দা লুটেছে, নেটফ্লিক্স-ও তাই। আগামি দুটো ত্রৈমাসিকে আমাজন যথাক্রমে 22% এবং 21% বৃদ্ধি পেতে পারে বলে প্রত্যাশিত। 2019-এ অ্যাপল-এর বৃদ্ধি 82% যা ওই বছর S&P500-র তুলনায় 32%, যেখানে আয় 2% শতাংশ পড়ে গেছে এবং EPS (কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয়) অপরিবর্তিত থেকে গেছে।
    দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, গুগুল ও ফেসবুকের EPS আগের বছরের তুলনায় (YOY) 35% অবধি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং তাদের আয় বৃদ্ধি ইতবাচক হবে। এই বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মাইক্রোসফ্ট খুব মজবুত বৃদ্ধি দেখাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা লক-ডাউন এবং লোকেদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে খুবই অস্বাভাবিক।

 

NordFX বিশ্লেষণ গোষ্ঠী

 

দ্রষ্টব্য: এই বক্তব্যগুলিকে আর্থিক বাজারে কাজ করার জন্য বিনিয়োগের পরামর্শ বা পথনির্দেশ হিসেবে দেখা উচিৎ নয় এবং এগুলির উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র তথ্য পরিবেশন করা। আর্থিক বাজারগুলিতে কেনা-বেচা করা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং তা লগ্নীকৃত অর্থ পুরোপুরি হারানোর কারণ হতে পারে।


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)