মার্চ 14, 2020

প্রথমে, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোর একটা পর্যালোচনা:

  • EUR/USD এটাই! বিশ্বের অর্থব্যবস্থা আর কোন সরকার, ব্যাংক বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। অর্থব্যবস্থা একটি মাত্র "ব্যক্তি" চালাচ্ছে যার নাম Covid-19। করোনা ভাইরাসজনিত বিশ্বমহামারির কারণে সমস্ত শেয়ার বাজারগুলিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, তেলের দাম মুখ থুবড়ে পড়েছে, উৎপাদন কমে গেছে, এবং সীমান্তগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  আগামি এক সপ্তাহে, এক মাসে, ছয় মাসে কী হবে সে ব্যাপারে কিছু না জানার কারণে মানবতা ত্রস্ত হয়ে রয়েছে। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, রেস্তোঁরা ও ক্যাফে, পার্ক ও স্টেডিয়াম সব খালি, এবং লোকেদের একাবেরেই রাস্তায় না বরোনর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সুপারমার্কেটগুলি থেকে খাদ্যবস্তু আর টয়লেট পেপার উবে যাচ্ছে। সমস্ত ধরনের সাধারণ অনুষ্ঠানগুলি বাতিল করা হয়েছে, আর সোশাল মিডিয়ায় একটা কৌতুক ঘুরছে, আর তা হল, করোনা ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য হতে যাওয়া বৈঠক বাতিল করা হয়েছে কারণ... করোনা ভাইরাস। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন সীমান্ত সীল করে দেওয়া ও ইউরোপীয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত বিশ্বের বাজারগুলিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। EuroSTOXX50 ফিউচার 5.57% পড়েছে, অন্যদিকে, DAX30 ফিউচার 4.22% পড়ছে। মার্কিন শেয়ার বাজার গত 33 বছরে সর্বাধিক লোকসানের মুখ দেখেছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতবর্ষ, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য দেশগুলিও বহু বছরের নিম্নস্তর দেখেছে।
    মনে করে দেখুন, গত 04ঠা মার্চে মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভের বৈঠকে মূল সুদের হার 1.75% থেকে কমিয়ে 1.25% করার সিদ্ধান্ত বাজারে একটা বোমা বিস্ফোরণের মত প্রভাব তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে, EUR/USD জুটি 640 পয়েন্ট উঠে 1.1500 অঙ্কের কাছাকাছি চলে আসে।
    মার্কিন সমকক্ষের বিপরীতে, ECB তাদের 12ই মার্চ, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিতই রাখে। ব্যাংকের গভর্ণর ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড বলেন, ইউরোজোন-এর ব্যাংকব্যবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং সুদের হারে কোন বদল আনার দরকার নেই। (ওটা আগে থেকেই ঋণাত্মক এবং -0.5%-এ রয়েছে)। তবে মিস ল্যাগার্ডের এই বক্তব্যে বাজার বেশ প্রভাবিত হয়েছে যে, ECB-র ন্যারো স্প্রেড সমস্যার সমাধানে যাওয়া উচিৎ নয়। বিনিয়োগকারীদের মনে ছিল যে, 2011-র সুদের হার বৃদ্ধি কীভাবে ঋণের সংকট তৈরি করেছিল, এবং কীভাবে ইউরোপের শেয়ার বাজার ও মুদ্রা দুই-ই সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গিয়েছিল এবং তা শুধু 1.1055 হরাইজনে গিয়েই থেমেছিল।
    গত বছরে এই জুটির সাপ্তাহিক অস্থিরতার পরিসর যদি 200 পয়েন্টের দিকে গিয়ে থাকে, তাহলে এই বছর EUR/USD জুটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সহজেই তা পার করে যায়। গত সপ্তাহে, ডলার, সর্বাধিক, ইউরো-র থেকে 440 পয়েন্ট ফিরে পায়।  তারপর একটি সংশোধন আসে, এবং এই জুটি তাদের পাঁচ দিনের সময়কাল 1.1100-র স্তরে গিয়ে শেষ করে। এই ফলাফল, আমাদের মতে, এই ইঙ্গিত দেয় যে, বাজারগুলি সম্পূর্ণরূপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে, যেহেতু এই জুটি আবার তাদের পিভোট পয়েন্টে ফিরে এসেছে, যার আশেপাশে এরা গত মে, 2019 থেকে ঘোরাফেরা করে আসছিল।
    এক সপ্তাহ আগে দেওয়া পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, তখন বিশ্লেষকদের 40% এই মত দিয়েছিল যে, এই জুটি 1.1450-1.1500-র জোনে পৌঁছাবে। আর গত 09ই মার্চ সোমবার তা ঘটেছিল। বেশিরভাগ (60%) বিশেষজ্ঞ এই জুটির 1.1000-1.1100-এর পরিসরে প্রত্যাবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল, যেখানে, যেমনটি উপরে বলা হল, এই জুটি কালক্রমে ফিরে এসেছে। অতএব, উভয়েই 100% ছিল। এটি কি একটি বিরোধাভাস? না, করোনা ভাইরাস সেটা ঠিক করে দিয়েছিল;
  • GBP/USD। পাউন্ডের দাম দুটি প্রধান বিষয় নির্ণয় করছে। প্রথমটি হল তেলের বাজারে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি এবং এই শক্তি বাহকদের দামের পতন, যা ব্রিটিশ মুদ্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। আর দ্বিতীয়টি হল ঋণ-বাজারের ঋণাত্মক গতিবিধি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির অনুরূপ সিকিউরিটিগুলির সঙ্গে তুলনায় UK-এর 10-বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডগুলি থেকে আয়ে পতন জারি রয়েছে। কিন্তু বন্ডের আয় কমাতে পাউন্ড বরফধসের মত পড়ে একবারে রসাতলে চলে যাচ্ছে। 5 দিনে 900 পয়েন্ট পতনকে আপনি আর কী-ই বা বলতে পারেন?
    ফলত, এই জুটির মূল্য 2019-এর অক্টোবরের প্রথম দশ দিনের জায়গায় পৌঁছে যায় এবং কারবারি সময়কাল এমন এক জায়গায় গিয়ে শেষ করে যেখানে এক সপ্তাহ আগে পৌঁছানোর ব্যাপারে বুল (ঊর্ধ্বমুখী গতি) এমনকি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি: 1.2280-এ;
  • USD/JPY গত সোমবার সন্ধ্যে থেকে ইউরো, পাউন্ড, ইয়েন-এর সাপেক্ষে, ডলার ক্রমাগত পড়ে আসছে। বিনিয়োগকারীরা সোনাও ছেড়ে দিচ্ছেন, যার সঙ্গে এই জুটির একটি বিপরীতধর্মী পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলস্বরূপ, গত সোমবার তাদের অবলম্বন 101.17 থেকে ধাক্কা খেয়ে শুক্রবার, 13ই মার্চ এই জুটি সেখানে পৌঁছে যায় যেখানে এরা গত 06ই মার্চ, সোমবার ছিল - 108.0-র স্তরে। গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণের নিরীখে ওই রকম একটি অঙ্কে অবাক করার মত কিছু নেই। বিস্ময়ের একমাত্র বিষয় হল সময় এবং অস্থিরতার পরিসর: – প্রথমে 5.5 দিনে 700 পয়েন্টের পতন, তারপর একই অঙ্কের পতন 4.5 দিনে। এ ব্যাপারে আপনি আর কী-ই বা করতে পারেন, এটাই এখনকার নতুন বাস্তবতা;
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। "Cui prodest?”, - কথাটা প্রাচীন রোমানদের, যার মানে হল: "কার লাভ হচ্ছে দেখুন।" আর লাভটা ছিল সমস্ত ক্রিপ্টো-গুরুদের, ক্রিপ্টো-কোটিপতিদের এবং বিপুল পরিমাণে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে বসে থাকা অন্যান্য বক্তিদের। হাজার হলেও, তারাই তো এতদিন ধরে বিনিয়োগকারী ও কারবারিদের এই বিশ্বাস দিয়ে আসছিলেন যে, বিটকয়েন, এবং তার সঙ্গে অবশিষ্ট গোটা ক্রিপ্টো-বাজার, অদূর ভবিষ্যতে অভূতপূর্ব উত্থান দেখবে। "হেজিং মুদ্রাগুলির ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিটকয়েন একটি দারুণ উপকরণ হয়ে উঠেছে এবং তা শীঘ্রই ডলারের জায়গা নিয়ে নেবে!"- তারা বলেই আসছিলেন, সকলকেই ক্রিপ্টো-মুদ্রায় বিনিয়োগের অনুরোধ করে আসছিলেন, সকলকে আরও আরও ধনী করে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে আসছিলেন। তাতে কী?
    এই সব "ঋত্বিকদের” জাদুর ব্যাপারে কথা বলে আমরা প্রতিনিয়ত সতর্ক করে গেছি যে, সঠিকভাবে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করাটা খুবই জরুরি, এবং, সম্ভবত, কেনার বদলে, বিক্রির জন্য একটি পজিশন খোলা উচিৎ – কারণ BTC/USD জুটি শুধু দ্রতগতিতে বাড়তেই পারে তা না, বরং তার থেকেও দ্রুত গতিতে পড়তেও পারে। আর ঠিক সেটাই হল গত সপ্তাহে।
    আপনারা যদি বিটকয়েনের সমর্থকদের কথা মানেন, তাহলে এটিকে শেয়ার বাজারে ধস নামা, বিনিময় দরের পতন এবং অর্থনৈতিক বন্ধনগুলি ধ্বংস হওয়ার সময় বাজারের জীবনরেখা হিসেবে দেখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। আমরা এই মুহূর্তে সেই দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার মধ্যেই রয়েছি, কিন্তু এখন বিটকয়েন বিনিয়োগকারীদের টেনে উপরে তোলার বদলে, ডলারের নিরীখে বেশি মূল্যবান হবার বদলে, বরং দ্রুত সংকুচিত হয়ে চলেছে।
    12ই ফেব্রুয়ারী থেকে 13ই মার্চের মধ্যে মাত্র একমাস সময়কালের মধ্যেই, প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম 58% পড়েছে, $10,340 থেকে পড়ে $4,300-এ এসে দাঁড়িয়েছে। কিছু কিছু এক্সচেঞ্জে, এই পতন আরও বেশি ছিল – $3,815 অবধি এবং লোকসান 63%-এ পৌঁছেছিল।
    বিটকয়েন মাত্র একদিনেই, 12 থেকে 13 মার্চের মধ্যে, তার দামের প্রায় অর্ধেক পড়ে যায়, যা গোটা ক্রিপ্টো-বাজারকে টেনে নামিয়ে আনে,  যার মধ্যে ইথিরিয়াম (ETH/USD), লিটকয়েন (LTC/USD) এবং রিপল (XRP/USD)-এর মত শীর্ষস্থানীয় অল্টকয়েনগুলি ছিল। পরিস্থিতিটা গত শুক্রবার, 13ই মার্চ, কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হয় এবং BTC/USD জুটি $5,600-র স্তরে উঠে আসে। ক্রিপ্টো ফিয়ার অ্যান্ড গ্রিড সূচক কেবল 100 সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে 10-এ রয়েছে, যার মানে হল, বাজার শুধু ভীতই নয়, একেবারে সন্ত্রস্ত।

 

আগামি সপ্তাহের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, একাধিক বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলোকে, ও সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও গ্রাফিক্সভিত্তিক বিশ্লেষণের বহুবিধ পদ্ধতির ভিত্তিতে করা পূর্বাভাসগুলোকে একত্রিত করে, আমরা নিম্নোক্ত কথাগুলো বলতে পারি:

  • EUR/USD বিভিন্ন দেশের সরকার ও তাদের নিয়ামক সংস্থাগুলি তাদের দেশের অর্থনীতির হাল ফেরানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ECB যদিও সুদের হার কমায়নি কিন্তু তাদের কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং (QE) কর্মসূচিতে 60% বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে, যার পরিমাণ 2019 সালে €120 বিলিয়ন হবে। তাদের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল রিজার্ভ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের চাপে বাজারে শস্তা টাকার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে, যিনি দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। গত সপ্তাহ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণদান কর্মসূচি চালু করেছে, যার অধীনে ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাংকগুলোকে প্রতি সপ্তাহে $1.42 ট্রিলিয়ন করে ঋণ দিতে তৈরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি। এই সপ্তাহে, ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম কিস্তি বাৎসরিক 0.255% হারে পেয়েও গেছে। এটা যে ইঙ্গিত দেয় তা হল, আগামি সপ্তাহে ফেডেরাল রিজার্ভের বৈঠকে ডলারের দর অন্তত 0.50% কমানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
    এই শক্তির ভারসাম্য কিন্তু ডলারের জন্য সুবিধার হবে না। যদিও, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটা অংশ (55%) এখনও বিয়ার (ঊর্ধ্বমুখী গতি)-এর পক্ষে রয়েছে, H4-এর উপরের অসিলেটর এবং প্রবণতার সূচকগুলির 85% তাদের সমর্থন করছে। বাকি 45% বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, ডলার এখনও তার অবস্থান থেকে পড়বে এবং এই জুটি আবার উত্তর দিকে যাবে। এই পরিস্থিতিটিকে H4-এর উপর 15% অসিটেলর সমর্থন করে, যা এর মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির সংকেত দেয়।
    H4-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণ এই জুটির 1.0950-র স্তর অবধি খাঁড়া পতন দেখাচ্ছে, এবং তারপর প্রথমে এর 1.1100-র উচ্চতায় বৃদ্ধি এবং তারপর আরও 100 পয়েন্ট বৃদ্ধি দেখাচ্ছে।
    তবে, করোনা ভাইরাসের নিরন্তর আতঙ্ক, শেয়ার ও মুদ্রা বাজারগুলিতে চরম বিশৃঙ্খলা এবং তেলের দামে দ্রুত পতন ইত্যাদির সাথে যে কোন পূর্বাভাসই মুহূর্তেই ধুলিস্মাৎ হয়ে যেতে পারে। আর সেটা সেই শোরগোল প্রমাণিত করেছে যেটা D1-এর উপরের সূচকগুলিকে নির্ধারিত করে, যেখানে সবুজ, লাল এবং ধূসর রংগুলি মিলেমিশে রয়েছে।
    প্রধান অবলম্বন অঞ্চলগুলি হল, 1.1065 1.1000, 1.0850 এবং ফেব্রুয়ারীর সর্বনিম্ন স্তর 1.0750। প্রতিরোধের অঞ্চল হল 1.1175, 1.1240, 1.1350 এবং 1.1500;
  • GBP/USD। এটা স্পষ্ট যে, সাপ্তাহিক পর্ব মিটে যাবার পর প্রবণতা সূচকগুলির 100%-ই পতন প্রত্যাশা করছে। তবে, অসিলেটরগুলির পরিস্থিতি কিছুটা হলেও আলাদা – তাদের মধ্যে H4 সময়সীমার 20% এবং D1-এর 15% ইতিমধ্যেই মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির অঞ্চলে রয়েছে, যা আশু সংশোধনের অথবা প্রবণতা ঘুরে গিয়ে উপরে দিকে যাবার একটা ইঙ্গিত দেয়। D1-এর উপর গ্রাফিক্স সহযোগে করা বিশ্লেষণও এই অগ্রগতিকেই সমর্থন করে। এর রিডিং অনুযায়ী, এই জুটি তাদের 2019-এর অক্টোবর মাসের নিম্নস্তর 1.2200-এ পৌঁছে যেতে পারে, এবং তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে যেতে পারে – প্রথমে 1.2425-এর প্রতিরোধ অঞ্চলে এবং তারপর 1.2565-এর উচ্চতায়। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে হওয়া অস্থিরতার পরিসরগুলির পরিপ্রেক্ষিতে, আরও দুটি অবলম্বন অঞ্চল – 1.2065 এবং 1.1960 এবং আরও দুটি প্রতিরোধ অঞ্চল – 1.2725 এবং 1.2870-রও উল্লেখ করা যেতেই পারে। যদিও, সম্ভবত, সেটাই শেষ সীমা নয়।
    বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলির ক্ষেত্রে, আগামি সপ্তাহের জন্য তাদের নিয়ে একটি মত তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরবর্তী 1-2 মাসের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে, এই জুটির বৃদ্ধির পক্ষের সংখ্যাটা স্পষ্টতই সংখ্যাগরিষ্ঠ-75%, লক্ষ্যমাত্রা হল 1.2900-1.3100 স্তরে উঠে আসা;
  • USD/JPY। GBP/USD-র জন্য মধ্য-মেয়াদি পূর্বাভাস দেবার ক্ষেত্রে যদি বেশিরভাগ বিশ্লেষক পাউন্ডের বৃদ্ধি এবং ডলারের পতনের পক্ষে মত দিয়ে থাকেন, তাহলে ইয়েনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে, বিশেষজ্ঞদের 60-70% বিশ্বাস করেন যে, আগামি 1-2 মাসে, জাপানি মুদ্রা তাদের অবস্থান হারাবে, এই জুটি 108.30-109.75-এর অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যাবে যেমন মাখনের মধ্যে দিয়ে ছুরি চলে যায় এবং 112.00-112.40-এর স্তরে গিয়ে পৌঁছাবে। বুল (ঊর্ধ্বমুখী গতি)-এর পরবর্তী লক্ষ্য হল 200 পয়েন্ট উঁচুতে।
    খেয়াল করুন যে, আগামি সপ্তাহে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল রিজার্ভ-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি আমরা আগামি বৃহস্পতিবার, 19শে মার্চ ব্যাংক অব জাপান-এর তরফে এবং আগামি শুক্রবার, 20শে মার্চ ব্যাংক অব চায়না-র তরফেও অনুরূপ একটি সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে আছি। এই দুই নিয়ামক সংস্থাই দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কোম্পানিগুলিকে সমর্থনের ব্যাপারে তাদের সদিচ্ছার ব্যাপারে আগেই জানিয়ে রেখেছে। আর ইউয়ান-এর অস্থিরতার হার যদি বাজারকে স্তম্ভিত না করে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইয়েনের দরে হ্রাস একটা বড়সড় চমক হতেই পারে।
    যদি, ডলারের দর যখন নিচে থাকবে, তখন ইয়েনের দর -0.1%-এর ঋণাত্মক হারেই থেকে যায়, তাহলে এটি সম্ভব যে, স্কেলগুলি জাপানি মুদ্রার দিকে ঝুঁকবে, এবং USD/JPY জুটি আবারও নিচে নেমে যাবে, 105.90, 104.50 এবং 103.15-এর অবলম্বন অঞ্চলগুলিকে একটার পর একটা ভেঙ্গে দিয়ে। বিয়ার (নিম্নমুখী গতি)-র লক্ষ্যমাত্রা হল গত সপ্তাহের নিম্ন স্তরে ফিরে আসা এবং 101.00-এর স্তরকে পরখ করে দেখা।
    আর, অবশ্যই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 10-বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের বর্তমান বৃদ্ধি ও তেলের দামগুলিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলাটা খুবই জরুরি, যেগুলি বহুলাংশেই জাপানি ইয়েনের দরকে নির্ধারিত করে;

  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। "ওটা কী ছিল?"- বহু কারবারি ও বিনিয়োগকারীই গত সপ্তাহের ঘটনাগুলির দিকে ফিরে তাকিয়ে নিজেদেরকেই এই প্রশ্নটা করছেন। ওটা কি শুরু ছিল না শেষ? নাকি, ফাটকা কারবারিদের একটা বড় রকমের ফাটকা ছিল, যার পর বিটকয়েন তার সমস্ত ক্ষতি পুষিয়েও বেশি কিছু করে নেবে? নাকি, বোধহয়, লোকেরা শেষ অবধি ক্রিপ্টো ভবিষ্যতের উপর পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনি, এবং করোনা ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত একটা সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির সময়, তারা আভাসি সম্পদগুলি থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল, সেগুলিকে সময়ের মাপকাঠিতে পরীক্ষীত, যথেষ্ট ধর্তব্যযোগ্য ডলারে বদলে নিতে চেয়েছিল।
    এই মুহূর্তে সমীক্ষা করা বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসগুলিকে বেশ ভীত ও বিনয়ী দেখাচ্ছে। তাদের 65%-এর মতে, আগামি সপ্তাহে BTC/USD জুটি $6,000-6,500-এর অঞ্চলে উঠে আসবে। বাকি 45% এদের $5,000-এর আশেপাশে দেখছেন।
    কিন্তু বুল-এর ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি আরও কিছুটা খারাপই দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মাত্র 20% মনে করছেন বিটকয়েন মার্চের শেষের দিকে গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে $7,000-এর অঙ্ক পদার্পণ করতে সক্ষম হবে এবং অপর 20% এই মুদ্রার $3,000-3,500-এর অঞ্চলে পড়ে যাবার ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন। বাকি 60% এই কোন ভবিষ্যদ্বাণী করার ব্যাপারে একেবারেই তাড়াহুড়ো করতে চাননি।

 

NordFX বিশ্লেষণ গোষ্ঠী

 

দ্রষ্টব্য: এই বিষয়বস্তুটিকে বিনিয়োগের সুপারিশ অথবা আর্থিক বাজারগুলিতে কাজ করার দিকনির্দেশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ হবে না: এগুলির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহ করা।  আর্থিক বাজারগুলিতে কেনা-বেচা করা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং তা লগ্নীকৃত অর্থ পুরোপুরি হারানোর কারণ হতে পারে।


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)