অগাস্ট 29, 2020

প্রথমে গত সপ্তাহের ঘটনাবলির পর্যালোচনা :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। 60 শতাংশ বিশ্লেষক গত সপ্তাহে ফের একবার ডলারকে অগ্রাধিকার দেবার চেষ্টা করেছিলেন, আশা করেছিলেন যে ইউরো/মার্কিন ডলার জোড়া 1.1700-র সাপোর্ট ভাঙে। বাকি 40 শতাংশের মতে, এটার থাকা উচিত সাইড চ্যানেল 1.1700-1.1910-এর মধ্যে, যা প্রকৃত ঘটেছিল। উপরন্তু এটি শেষ করেছিল এই করিডোরের উপরের সীমান্তে।
    এই জোড়ার বিকাশ এবং ডলারের দুর্বল হওয়াকে জ্যাকসন হোল-এ একটি সিম্পোসিয়ামে দোষ দিয়েছেন ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েল, যাকে কিছু বিশ্লেষক বলেছেন ঐতিহাসিক। ফেড স্থির করেছে 2012 থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতিতে সবচেয়ে গুরুতর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, ‘2 শতাংশ গড় মুদ্রাস্ফীতির হার’-এর লক্ষ্যে এর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর অর্থ যে রেগুলেটর আর্থিক নীতি কড়া করবে না এমনকি যদি মুদ্রাস্ফীতির হার ওই দুই শতাংশ অতিক্রমও করে।
    এসব পরিবর্তন ইঙ্গিত দেয় আসন্ন মাস এবং এমনকি বছরগুলির জন্য একটি নরমতর আর্থিক নীতির। এবং এ ছাড়াও, ডলারে বর্ধিত সুদের হার আশা করা উচিত নয় বিনিয়োগকারীদের। যেমন জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির, যা মন্দা থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে, দরকার নিম্ন হার।
    এর ফলে, ডলার নেমে গিয়েছিল, সংকেত দিয়েছিল মার্কিন ঋণের একটি সেল-অফের। একটা ডাম্পিং ছিল শুধু দীর্ঘমেয়াদি নয়, বরং এইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সরকারি বন্ডের। উভয়ে একত্রে, এটি এক ধরনের বিষাক্ত চক্র গঠন করে, এসব সিকিউরিটিতে সুদের হার ক্ষতি হওয়া থেকে, উলটোদিকে ডলারে চাপ পড়েছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন্সির প্রেক্ষিতে একে আরও দুর্বল করে।
    এই পরিস্থিতর বাজার সচেতনতা এই সত্যে যায় যে বৃহস্পতি-শুক্রবার ইউরো/মার্কিন ডলার জোড়া উঠেছিল করিডোর 1.1700-1.1910-এর ঊর্ধ্বসীমায়, সপ্তাহ শেষ করেছে 1.1900-এ।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। পাউন্ড ধারাবাহিকভাবে 2019-এর উচ্চতা 1.3515-এ চড়ছে, এবং এটি গত সপ্তাহে এই লক্ষ্যের খুব কাছে ছিল, 280-পয়েন্ট ব্রেক করে পৌঁছয় 1.3350-এ। ব্রিটিশ কারেন্সিকে শুধু ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ডলারই সাপোর্ট করেনি, বরং এইসঙ্গে দুর্বল ব্রিটিশ প্রাইম মিনিস্টারও সমর্থন জুগিয়েছে।
    টাইমস সংবাদপত্র অনুযায়ী, কোভিড-19 দ্বারা অসুস্থতার পারম্পর্যে বিপদে পড়েছেন বরিস জনসন, এবং এই কারণে ব্রেক্সিট রূপান্তর পর্বে পদত্যাগ করতে পারেন, যার অর্থ, এবছরের শেষদিকে। যেহেতু জনসন চান প্রধানমন্ত্রিত্বের কার্যকাল খুবই ইতিবাচকভাবে শেষ করতে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছিন্ন হওয়া ঘটবে মসৃণভাবে, ইউরোপিয়ান একক বাজার এবং কাস্টমস ইউনিয়নে এর অ্যাকসেস না হারিয়ে। এবং এটা, স্বাভাবিকভাবে, পাউন্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।
  • মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই। গত চার সপ্তাহ ধরে এই জোড়া রয়েছে 105.10-107.00 পরিধির মধ্যে। যদিও, এর গতিবিধি তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছ সম্প্রতি। এবং এর প্রধান কারণ ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েলের বক্তৃতা নয়, বরং একটা খবর যে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে স্বাস্থ্যের কারণে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
    এই বার্তা ইয়েনকে 175 পয়েন্ট শক্তিশালী করতে অনুমোদন করেছে। কেন? প্রশ্নটা বেশ জটিল। যেমন কিছু বিশ্লেষক ব্যাখ্যা করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশিদিন কাটিয়েছেন আবে, এবং ব্যাংক অব জাপানের প্রধান হারুহিকো কুরোডার সঙ্গে যে কোনো উপায়ে জাতীয় কারেন্সি শক্তিশালী হওয়া আটকেছেন, এমনকি নেতিবাচক সুদের হার দিয়েও। এরকম নীতিকে বলা হত ‘আবেনমিক্স’, যদিও অনেকের মতে, এর নাম হওয়া উচিত ছিল ‘কুরোডানমিক্স’।
    এবার শিনজো আবে চলে যাচ্ছেন, এবং ‘আবেনমিক্স’ যুগ হয়তো তাঁর সঙ্গেই চলে যাবে, যা হবে কড়া আর্থিক নীতি আলগা করা এবং জাতী কারেন্সির শক্তিশালীকরণ।
    এদিকে, উপরে যেমন বলা হয়েছে, দারুণ গুরুতর কিছুই ঘটেনি, ইয়েন রয়েছে আগস্ট করিডোরে এবং পাঁচ-দিনের পর্ব শেষ করেছে 105.35-এ।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। যদিও বিটকয়েন, যেমন প্রায় এক বছর আগের মতো, 12000 ডলারের ওপরে পা রাখতে পারেনি, পরিস্থিতি সাধারণভাবে এর পক্ষে ছিল। প্রথমত, প্রধান নিয়ন্ত্রকদের এটা হল নরম আর্থিক নীতি, সমাপ্তি এখনও প্রত্যাশিত নয়। দ্বিতীয়ত, আমরা দেখেছি বেশকিছু কোম্পানি ও পরিষেবার সংখ্যার বিকাশ যা ক্রিপ্টোকারেন্সিকে পেমেন্টের উপায় হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। ডিজিটাল সম্পদ এবং বেশকিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি মনোভাব আরও আনুগত্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে, বিশ্লেষকদের মতে, কোভিড-19 অতিমারি বিশাল ভূমিকা নিয়েছে, যার জন্য আমাদের জীবনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলে গিয়েছিল অনলাইনে। মনে করা হচ্ছে যে এমনকি এফএটিএফ (ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স) এসেছে ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির অস্তিত্বের মেয়াদে।
    মোবাইলে অ্যাপে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাণিজ্য গত বছরের আগস্টের তুলনায় বেড়েছে 81 শতাংশ। বিশ্লেষণী কোম্পানি অ্যাপটোপিয়া-র সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ধরনের লেনদেন প্রতি মাসেই আগেরটিকে অতিক্রম করে সক্রিয় ব্যবহারকারী ও নতুন রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যার প্রেক্ষিতে। মোবাইল অ্যাপ কয়েনবেস ও Crypto.com দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা রেকর্ড গড়েছে, 20 আগস্ট পর্যন্ত, যথাক্রমে 969,000 ও 576,000।
    বিশাল দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। সেজন্য, গ্লাসনোড-এর মতে, বর্তমানে আছে 2190 ওয়ালেটে 1000 বা তার বেশি বিটিসি কয়েন। সামগ্রিকভাবে, এসব ওয়ালেট প্রায় 8 মিলিয়ন বিটকয়েন স্টোর করেছে যার মোট অর্থ 90 বিলিয়ন ডলারের বেশি।
    এদিকে, গত সপ্তাহে বিটকয়েন নতুন একটি পিভট পয়েন্ট খুঁজে পেয়েছে – 11500 ডলার, এর সঙ্গেই এই সময়ে এটি চলাফেরা করেছে। বিটিসি/মার্কিন ডলার জোড়া এই রেখার উপরে ছিল সাত-দিনের পর্বের প্রথমার্ধে, তার পর এটা পড়ে যায় 11,100 ডলারের সাপোর্টে। কিন্তু দ্রুত এটি ফিরে আসে আরও 400 ডলার উঁচুতে। এটা ঘটেছে তার জন্য বড় ধন্যবাদ প্রাপ্য ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান জেরোম পাওয়েলের জ্যাকসন হোল সিম্পোসিয়ামের বিবৃতির, যা ডলারকে সামান্য দুর্বল করেছে এবং বিকল্প সম্পদ, সোনা সহ বিটকয়েনের বিকাশ ঘটিয়েছে।
    মোট ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন সাত দিনে হ্রাস হয়েছিল, কিন্তু খুব বেশি নয় – 366 বিলিয়ন ডলার থেকে 360 বিলিয়ন ডলারে। ক্রিপ্টো ফিয়ার ও গ্রিড ইনডেক্স শেষ ত্রৈমাসিকে এসেছিল, 81 পয়েন্ট থেকে 74-এ। ইন্ডিকেটরের ডেভেলপারদের মতে, এটা বোঝায় যে অতিরিক্ত ক্রীত বিটিসি ক্রমশ অস্পষ্ট হচ্ছে, সেজন্য এখন সংক্ষিপ্ত পজিশন খোলা হতে পারে বিপজ্জনক।

 

আগামী সপ্তাহের অনুমানের ক্ষেত্রে, বেশকিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞের মতামতের সংক্ষেপের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও গ্রাফিক্যাল বিশ্লেষণের বিভিন্ন পদ্ধতির ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি :

  • ইউরো/মার্কিন ডলার। জ্যাকসন হোল-এ কথা বলতে গিয়ে জেরোম পাওয়েল, প্রকৃতপক্ষে, ডলারের পাখনা ছেঁটেছেন। ফেড প্রধান এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে সুদের হার থাকবে রেকর্ড নিম্নে এমনকি যদি মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়েও। এটা মার্কিন কারেন্সির জন্য পরিষ্কার আবছা সংকেত, যার অর্থ ডলারের তুলনায় ইউরো ও অন্যান্য প্রধান কারেন্সি উঠবে।
    অন্যদিকে, শূন্যের নীচে হার নিয়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ফেড-এর, যা মার্কিন ডলার হারের মাঝারি-ইতিবাচক উপাদান। এইসঙ্গে, এটা মনে রাখতে হবে যে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড-এর পথ অনুসরণ করতে পারে, হ্রাস নয়, কিন্তু কোয়ান্টিটিভ ইজিং (কিউই) নীতি প্রসার এবং ধারাবাহিক রাখা। সেজন্য উদাহরণস্বরূপ, ফেড-এর মতো অবস্থান নিতে পারে ইসিবি। ইতিমধ্যে, ব্যাংক অব ফ্রান্স-এর প্রধান ফ্রাঙ্কো ভিলেরয় দি গালহাউ একইরকম মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য সম্পর্কে বলেছেন। ইউরোজোনের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি, যেখানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী, এই সুরে সুর মেলাতে পারে। সেজন্য ডলারের আসন্ন নিম্নগতি এত স্পষ্ট নয় যেমনটা প্রথম নজরে দেখায়।
    এখন পর্যন্ত, আপনি যদি ইন্ডিকেটরের দিকে তাকান, পরিস্থিতি এর পক্ষে নয়। H4 ও D1-এ 85 শতাংশ অসিলেটরের রং সবুজ, 15 শতাংশ রয়েছে অতিরিক্ত ক্রীত অঞ্চলে। ট্রেন্ড ইন্ডিকেটরদের ভেতরে, ইউরো মার্কিন ডলার জোড়ার বিকাশের পক্ষে বেশি সমর্থক আছে : H4-এ 100 শতাংশ এবং D1-এ 95 শতাংশ।
    কিন্তু এই ছবি বিশ্লেষকদের কাছে একেবারে পৃথক। তাঁদের 60 শতাংশের বিশ্বাস যে জোড়াটি 1.1700-1.1910 মূল্য পরিধিতে থাকবে। এবং যেহেতু এটা গত সপ্তাহ শেষ করেছে ঊর্ধ্ব সীমানায়, এর অর্থ জোড়াটির বিপরীত প্রবণতা এবং 1.1700 স্তরে ফিরে আসার। বাকি 40 শতাংশ বিশ্লেষক চ্যানেলের ঊর্ধ্ব সীমা ভাঙার পক্ষে রয়েছেন, ডলার আরও দুর্বল হবে এবং জোড়াটি প্রথম উঠবে 1.1950 উচ্চতায়, এবং তারপর আইকনিক স্তর 1.2000-এ।
    গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস রিডিঙে মনোযোগ দেওয়া দরকার। D1-এ, সেপ্টেম্বরের অনুমান হল : প্রথমে 1.1700-এ পতন, তারপর এক ধাক্কায় আরোহণ 1.2035-এ, এরপর চ্যানেল 1.1900-1.2035-এ সাইড মুভমেন্ট।
    এবং আগামী সপ্তাহের ম্যাক্রোইকোনমিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে কিছু কথা। মঙ্গলবার, 1 সেপ্টেম্বর আমরা দেখব ইউরোজোনের উপভোক্তা বাজারের ডেটা, ইউএস আইএসএম বিজনেস ক্রিয়াকলাপ সূচক প্রকাশিত হবে 1 ও 3 সেপ্টেম্বর এবং শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর, আমরা মার্কিন শ্রম বাজারের অবস্থা সম্পর্কে প্রথাগতভাবে জানতে পারব, কৃষি ক্ষেত্রের (এনএফপি) বাইরে কত কাজ সৃষ্টি হয়েছে সেই সংখ্যাটাও জানা যাবে।
  • জিবিপি/মার্কিন ডলার। এটা স্পষ্ট যে 100 শতাংশ ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর গত সপ্তাহের শেষে উত্তরের দিকে তাকিয়েছিলেন। কিন্তু H4 ও D1-এ অসিলেটরদের জন্য, 25 শতাংশ ইতিমধ্যে সংকেত দিয়েছে যে পাউন্ড অতিরিক্ত ক্রীত। 55 শতাংশ বিশেষজ্ঞও বিয়ারিশ সেন্টিমেন্ট সমর্থন করেছেন। মোট কথা, যখন সাপ্তাহিক থেকে মাসিক অনুমানে যাওয়া হয়, তাদের নম্বর 80 শতাংশ বৃদ্ধি হয়। সাপোর্ট জোন হল 1.3275, 1.3155 এবং 1.3050।
    জিবিপি মার্কিন ডলার জোড়া গত ট্রেডিং সেশন শেষ করেছে 1.3350-এ, যা বেশ শক্তিশালী রেজিস্ট্যান্স স্তর, যেখানে এটা ব্যর্থভাবে ঝড় তুলেছিল জুলাই 2018 ও মার্চ 2019-এ, সেজন্য এখান থেকে সেখানে ফিরে যাওয়ার অনেক সুযোগ আছে এবং একটি নিম্নমুখী সংশোধনের। অন্যদিকে, বুলের আকাঙ্ক্ষা হল 2019-এর উচ্চতা 1.3515 পুনর্বনীকরণের, এটি একটি শক্তিশালী স্টিমুলাস যা ডলারের হ্রাস সমর্থন করে।
    ইউরো/মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে যেমন, D1-এ গ্রাফিক্যাল অ্যানালিসিস সুদের। এর রিডিং অনুযায়ী, জোড়াটি হয়তো আগামী দিনগুলিতে 1.3515 উচ্চতায় পৌঁছবে, তারপর ঘুরবে, এবং এটি প্রথম ফিরবে 1.3275 সাপোর্টে এবং তারপর পতন ঘটবে 1.3050 স্তরে।
    জোড়াটির ডায়নামিক্সে কিছু নির্দিষ্ট অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে পারে বুধবার, 2 সেপ্টেম্বর ব্যাংক অব ইংল্যান্ড দ্বারা প্রস্তুতকৃত ইনফ্লেশন রিপোর্ট এবং বৃহস্পতিবার, 3 সেপ্টেম্বর এর প্রধান অ্যান্ড্রু বেইলির বক্তব্য শোনা দ্বারা।

  • মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই। এই জোড়ার জন্য অনুমান সেই একই যা ইউরো ও পাউন্ডের ক্ষেত্রে উপরে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ইন্ডিকেটর ইঙ্গিত দিয়েছেন ডলারের আরও দুর্বলতার দিকে, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ, উলটোদিকে, এর শক্তিশালীকরণের দিকে।
    100 শতাংশ ট্রেন্ড ইন্ডিকেটর ও 75 শতাংশ অসিলেটরের রং লাল। H4 ও D1 উভয় সময়সীমায় বাকি 25 শতাংশ অসিলেটর সংকেত দিয়েছেন জোড়াটি অতিরিক্ত বিক্রীত।
    65 শতাংশ বিশ্লেষকের বিশ্বাস যে মার্কিন ডলার/জেপিওয়াই জোড়া 105.10-107.00 করিডোর সীমা ত্যাগ করবে না, এবং মাত্র 35 শতাংশ এটি জুলাই 31-এর নিম্ন 104.18-এ হ্রাসের সম্ভাবনা বিবেচনা করেন।
  • ক্রিপ্টোকারেন্সি। ক্রিপ্টো মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন এখন মাত্র 360 বিলিয়ন ডলার, যা মাইক্রোসফট, অ্যাপল বা আমাজনের 25-30 শতাংশ ক্যাপিটালাইজেশন। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি কর্পোরেশন নয়, বরং একটি সমগ্র আর্থিক ও প্রযুক্তিগত শিল্প যা গোটা বিশ্বের হাজার কোম্পানিকে ঐক্যবদ্ধ করে। এবং সেই কারণ দেয় বলার জন্য যে ডিজিটাল মার্কেট খুবই অবহেলিত।
    ক্রিপ্টোকারেন্সি ফান্ড গ্রেস্কেল ইনভেস্টমেন্টের একটি নতুন রিপোর্ট বলছে যে বিটিসি বাজারের বর্তমান কাঠামো 2016-এর প্রথমদিকের মতোই, ঐতিহাসিক বুলিশ বিকাশ শুরু হওয়ার আগের। ফান্ড বিশ্লেষকদের অনুমান যে মুদ্রাস্ফীতির ত্বরণ ঘটলে বিটকয়েনের চাহিদা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি হবে।
    অপরিহার্য নতুন বৈশ্বিক ব্যাংকিং সংকটের কারণে বিটকয়েনের বিকাশও ঘোষণা করেছিলেন কিংবদন্তি বই ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’-এর লেখক তথা আন্তেপ্রেনিউয়র ও বিনিয়োগকারী রবার্ট কিয়োসাকি। উপরন্তু, তাঁর মতামতে শক আরও বিস্তৃত হবে পূর্ববর্তী আর্থিক সংকটের তুলনায়। বিনিয়োগকারীদের ‘নিরাপদ স্বর্গ’-এ রূপান্তরণে ত্বরণ দরকার, কিয়োসাকি লিখেছেন টুইটারে। এইসঙ্গে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন আগত সংকটের প্রমাণ ছিল এই সত্যে যে ওয়ারেন বুফের মতো বিশাল বড় ফিনান্সারও ইতিমধ্যে তাঁর সম্পদ সংক্রান্ত সবকিছু বিক্রি করেছেন ব্যাংকিং ক্ষেত্রে। ‘সম্ভবত, এসব মানুষ অনুভব করেন যে সংকট আসছে এবং প্রভাব ফেলবে, সবার প্রথমে, ঐতিহ্যবাহী আর্থিক ব্যবস্থায়,’ বলেছেন কিয়োসাকি। তাঁর মতে, এখন আপনার পুঁজি আরও বিশ্বস্ত ক্ষেত্রে ট্রান্সফার করা জরুরি, যেমন বিটকয়েন, সোনা ও রুপোয়।
    বিশ্লেষকরা বর্তমান করোনা ভাইরাস অতিমারিকে বলছেন বিটিসি/মার্কিন ডলার জোড়ার জন্য অন্যতম প্রধান বিকাশ চালক। এটা একে ধন্যবাদ দেয় কারণ বহু বিনিয়োগকারী তাঁদের মতামত প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ডিজিটাল কয়েনে ঘুরিয়েছেন। এবং জেরোম পাওয়াল বলেছেন যে আর্থিক নীতি কড়া করবে না ফেড, যা দীর্ঘমেয়াদে বিটকয়েনের বৃদ্ধিও করতে পারে।
    টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসে কিছু বিশেষজ্ঞও দেখেন 12000 ডলার স্তরের ব্রেকডাউনের সম্ভাবনা এবং W1 ও MN সময়সীমায় এই জোড়াটির 40-45 হাজার ডলারে আরোহণ। যদিও নিকট ভবিষ্যতে, 65 শতাংশ বিশ্লেষকের আশা বিটিসি/মার্কিন ডলার জোড়া যাবে 11000 ডলারের সঙ্গে। একটি-একক নির্গমণের পিভট পয়েন্ট 9500 ডলার দক্ষিণ পর্যন্ত এবং 12800 ডলার উত্তরে। এ ছাড়া, মাত্র 20 শতাংশ বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস যে বিটকয়েন সমর্থ হবে সেপ্টেম্বরে অন্তত 14000 ডলার সীমানা ছুঁতে।

 

নর্ডএফএক্স অ্যানালিটিক্যাল গ্রুপ

 

বিজ্ঞপ্তি : এসব তথ্য আর্থিক বাজারে কাজের জন্য বিনিয়োগ বা পরামর্শ হিসেবে কোনো সুপারিশ নয় : এগুলি একমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে। আর্থিক বাজারে ট্রেডিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে ডিপোজিটকৃত ফান্ডের পরিপূর্ণ ক্ষতি হতে পারে।


« বাজার বিশ্লেষণ ও সংবাদ
প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করুন
মার্কেটে নতুন? ব্যবহার করুন “শুরু করা যাক” বিভাগটি।
প্রশিক্ষণ শুরু করুন
আমাদের অনুসরণ করুন (সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে)